The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের ৪ দিন পর সজলের পরিচয় শনাক্ত: মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর- শেষকৃত্য সম্পন্ন

নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তার নাম সজল চন্দ্র শীল (৪৪)। পরিচয় শনাক্তের পর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে সদর মডেল থানার নির্দেশনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সহযোগিতায় সজল চন্দ্র শীলের ভাতিজা অসীম চন্দ্র শীলের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তার স্বজনদের পাশাপাশি সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাইকপাড়ার পানির ট্যাংকির সামনে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন সজল চন্দ্র শীল। স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইমরান হুসাইন শাকিল বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরকে জানান। পরে তিনি তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করেন৷ পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের তত্ত্বাবধানে অজ্ঞাত রোগী হিসেবে তার চিকিৎসা চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সোমবার (২০ জুলাই) ভোররাত সোয়া ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে সদর মডেল থানা পুলিশ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত হয়।
সজল চন্দ্র শীল হবিগঞ্জ জেলার মির্জাপুর এলাকার মৃত সুধীর চন্দ্র শীল ও বাসন্তী রানী শীলের ছেলে। তিনি ঢাকার পোস্তগোলায় একটি সেলুনে কাজ করতেন। তার স্ত্রী রুমা চন্দ্র শীল ও ছেলে সাগর চন্দ্র শীল রয়েছে।
সজলের ভাতিজা অসীম চন্দ্র শীল জানান, নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন আগে সজল ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাইকপাড়ায় তার ভাতিজা সুজন চন্দ্র শীলের বাসায় বেড়াতে আসেন। পরে গত ১৬ জুলাই হবিগঞ্জে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরে ফেসবুকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যুর খবর ও ছবি দেখে সদর মডেল থানা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে আমরা মরদেহ বুঝে পাই এবং মেড্ডা শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর আমাদের সহযোগিতা করায় আমরা সজলের পরিচয় জানতে পেরেছি। এ জন্য সংগঠনটির প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, ‘অজ্ঞাত হিসেবে চার দিন ধরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছি। সৃষ্টিকর্তা তাকে শান্তি দান করুন।’
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।’
Exit mobile version