The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনার অনুষ্ঠানে হামলা কী বৈধ?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন লেখক ও গবেষক সহুল আহমদ। প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, গান-বাজনার অনুষ্ঠানে হামলা বা তা বন্ধ করে দেওয়া কতটা বৈধ।
‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনার অনুষ্ঠানে হামলা কী বৈধ’ শিরোনামে রোববার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত নিবন্ধে সহুল আহমদ বলেন, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায় এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
নিবন্ধে বলা হয়, পরীক্ষা থাকায় উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাদানুবাদ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল বলে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়। একই সময়ে কিশোরগঞ্জে ইমাম-উলামা পরিষদের আপত্তির মুখে একটি কনসার্ট বাতিলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন লেখক।
সহুল আহমদ তাঁর নিবন্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকাটা এ রকম যে গান-বাজনা-সিনেমা বহু বছর ধরে তাদের মধ্যে নিষিদ্ধের মতো আরকি। ওখানকার পরিস্থিতি আলাদা।’
লেখকের মতে, এ ধরনের বক্তব্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ বা হামলার ঘটনাকে এক ধরনের বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যেখানে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা উৎসাহিত হলে পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হতে পারে।
নিবন্ধে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জয়পুরহাটে নারীদের ফুটবল ম্যাচ বাতিলের ঘটনাও তুলে ধরা হয়। লেখক বলেন, মাঠে ভাঙচুরের পর খেলা বন্ধ হয়ে গেলেও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশে পরে সেখানে আবার ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল। তাঁর মতে, সরকার সক্রিয় হলে দমন-পীড়নের পথ এড়িয়ে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজন চালু রাখা সম্ভব।
এ ছাড়া ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনাকেও জনপরিসর সংকুচিত হওয়ার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন সহুল আহমদ। তিনি দাবি করেন, পূর্বঘোষিত সমাবেশের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে ডিএমপি কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে মামলা থাকার বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও নিবন্ধে বলা হয়।
সহুল আহমদ লিখেছেন, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিসর হলো নাগরিক অধিকার, সাংস্কৃতিক চর্চা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের মুক্ত স্থান। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন মতাদর্শ ও মতের সহাবস্থান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, কেউ গান, সিনেমা বা কনসার্ট আয়োজন করতে চাইলে যেমন তা করার সুযোগ থাকা উচিত, তেমনি কেউ এসব পছন্দ না করলে শান্তিপূর্ণভাবে তার বিরোধিতা বা বিকল্প আয়োজনও করতে পারেন। তবে প্রতিবাদ জানানো এবং হামলা বা অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া এক বিষয় নয়।
নিবন্ধের শেষাংশে লেখক বলেন, কোনো অজুহাতেই জনপরিসর সংকুচিত করা উচিত নয়। সাংস্কৃতিক আয়োজনের ওপর হামলা থেকে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের পরিসর ক্রমে সংকুচিত হতে থাকলে তা শুধু গণতান্ত্রিক রূপান্তর নয়, বাংলাদেশের জন্যও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
**মতামতটি প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধে প্রকাশিত বক্তব্য ও বিশ্লেষণ লেখক সহুল আহমদের নিজস্ব।**
Exit mobile version