The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

বিয়ের ১০ দিনের মাথায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল প্রবাসী স্বামীর, হাসপাতালে আহত নববধূ

মাত্র ১০ দিন আগে স্বামীর হাত ধরে নতুন সংসারে পা রেখেছিলেন সুমা আক্তার। চোখভরা স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের অসংখ্য পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয়েছিল দাম্পত্য জীবন। কিন্তু সেই স্বপ্ন টিকল মাত্র ১৬ দিন। শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথেই ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারালেন তার সৌদি প্রবাসী স্বামী মো. ইয়ামিন ভূইয়া (৩০)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন নববধূ সুমা।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইয়ামিন সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামের মো. আবুল বাশারের ছেলে। আহত সুমা আক্তার পাশের মাছিহাতা ইউনিয়নের আটলা গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় মুঠোফোনে ইয়ামিন ও সুমার বিয়ে হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে ফিরে গত ১৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সুমাকে ঘরে তোলেন ইয়ামিন। নতুন সংসারের আনন্দ তখনও কাটেনি। সোমবার বিকেলে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বেড়িয়ে অটোরিকশাযোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন তারা।
পথে ভাদুঘর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ইয়ামিন ও সুমা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়ামিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের স্বজনরা জানান, বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে ইয়ামিন স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশে ফিরে সংসার গড়ে তোলার। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তব হওয়ার আগেই এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল তার জীবন। আর বিয়ের মাত্র ১৬ দিনের মাথায় স্বামীকে হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসছেন সুমা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
Exit mobile version