
সিকিম পর্যটন দফতরের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, পর্যটনের মরসুম বাদে বাকি সময় রোজ গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন বিদেশি পর্যটক সিকিমে যান। পর্যটন মরসুমে তা হাজার ছাড়িয়ে যায়। করোনার ভয়ে এই পর্যটকদের জন্য দরজা বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব পর্যটন ব্যবসাতেও পড়বে। সিকিম ছাড়াও শিলিগুড়ির অনেক ভ্রমণ সংস্থা রয়েছে। তা ছাড়া পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অনেকে। তাঁরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নিয়ম মাফিক সিকিম যেতে বিদেশি পর্যটকদের বাধ্যতামূলক ভাবে ‘ইনার লাইন পারমিট’ নিতে হয় পর্যটন দফতর থেকে। শিলিগুড়ি থেকে যেমন এই পারমিট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনই কলকাতা, দিল্লি, দার্জিলিংয়ের মতো বিভিন্ন জায়গা থেকেও এই পারমিট মেলে। এ দিন বিদেশি পর্যটকদের যাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার নোটিসের জেরে ওই সমস্ত জায়গা থেকে ‘ইনার লাইন পারমিট’ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভুটানের বাসিন্দাদের অবশ্য সিকিম যেতে কোনও ‘ইনার লাইন পারমিট’ লাগে না। তবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সিকিমে তাঁদের যাতায়াতও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
শিলিগুড়িতে সিকিম ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টের পর্যটক তথ্যকেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর সোনম পেকি ভুটিয়া বলেন, ‘‘সিকিমে স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশে এ দিন থেকে বিদেশি পর্যটকদের ইনার লাইন পারমিট দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের আশঙ্কাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’ সিকিম পর্যটন দফতরের হিসেব অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে অন্তত ৮০০ জন বিদেশি পর্যটককে শিলিগুড়ির এই কেন্দ্র থেকে ইনার লাইন পারমিট দেওয়া হয়েছে।
এ দিন সিকিম যেতে বাংলাদেশ থেকে শিলিগুড়িতে এসেছিলেন ফিরদৌস হুসেন, অসিকুর রহমান, শাহরিয়া মহম্মদের মতো বেশ কয়েক জন। এসএনটি কেন্দ্রে ইনার লাইন পারমিট নিতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, এ দিন থেকে তা দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফিরদৌস বলেন, ‘‘অনেক পরিকল্পনা করে সিকিমে ঘুরতে যাওয়া হচ্ছিল। পুরোটাই ভেস্তে গেল।’’ শাহরিয়া মহম্মদ জানান, ‘‘সিকিম যেতে না পেরে খারাপ লাগছে। কিন্তু কিছু করার নেই। এখন অন্যত্র যাওয়ার কথা ভাবতে হবে।’’