ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুর এলাকায় আয়োজিত গ্রামীণ বান্নি মেলায় প্রকাশ্যে জুয়া খেলার আসর বসার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের নীরবতা ও গাফিলতির সুযোগে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ধরে এ জুয়া খেলা চলেছে। ঘটনাটি ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই এলাকায় গুঞ্জন চলছিল আব্দুল্লাপুর এলাকায় বান্নি মেলা বসবে কি না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। এ সময় থানায় উপস্থিত কয়েকজন সংবাদকর্মীর সামনেই ওসি স্পষ্টভাবে জানান, বান্নি মেলা বসতে দেওয়া হবে না এবং দায়িত্বরত ডিউটি অফিসারকে প্রয়োজনীয় পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে মেলা বন্ধের নির্দেশ দেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, দুপুরে ওসির এমন নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। বরং মেলাটি সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলার আড়ালে দুপুরের দিকে সেখানে জুয়া খেলার আসর বসে।
এদিকে বান্নি মেলায় জুয়া খেলার খবর পেয়ে উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জুয়ারিরা দ্রুত আসর গুটিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, সকালে মেলা শুরু হলেও দুপুরের পর মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে এবং তখনই জুয়ার আসর বসে। এ সময় পুলিশের একটি টিম মেলায় এলেও তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যায়। পরে জুয়ারিরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ‘ম্যানেজ’ করে পুনরায় জুয়া খেলা শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, জুয়া শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর চান্দুরা বিট পুলিশের এসআই গিয়াস উদ্দিন ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যাওয়ার পর আবারও জুয়ার আসর চালু হয়। সাংবাদিকদের আসার খবর পেয়ে জুয়ারিরা আসর ভেঙে পালিয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই গিয়াস উদ্দিন বলেন, “ওসি স্যার মেলা বসতে নিষেধ করেছিলেন। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিয়েছি। আমি কোনো টাকা নেইনি—এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।” তবে পুলিশ যদি মেলা ও জুয়ায় বাধা দিয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে মেলাটি রাত পর্যন্ত চলেছে—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
