The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

বালু দিয়ে জমি ভরাট করে ঘর নির্মাণ: ২০ মিনিট অপেক্ষা শেষে অভিযান ছাড়াই চলে গেল মোবাইল কোর্ট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শিমরাইলকান্দি এলাকায় বালু দিয়ে কৃষিজমি ভরাটের পর সেই জায়গায় ঘর নির্মাণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েও কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই ফিরে গেছেন দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল চারটার দিকে নূরপুর জিসি-কালীবাড়ি আরএন্ডএইচ সড়কসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যা স্থানীয়দের কাছে শেখ হাসিনা সড়ক নামে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সঙ্গে বিজয়নগর উপজেলাকে যুক্ত করা শেখ হাসিনা সড়কের শিমরাইলকান্দি এলাকায় দ্বিতীয় সেতুর পূর্ব পাশে তিতাস নদীর তীরসংলগ্ন কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী মহল সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব জমি নদীর প্লাবনভূমির আওতাভুক্ত।
এর আগে গত ১০ মার্চ স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা প্রশাসন ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এবং ভরাট করা বালু নিলামে বিক্রির নির্দেশ দেয়। তবে পরে নিলাম কার্যক্রম আর এগোয়নি। এ সময়ের মধ্যে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং বিলে বালু ফেলে ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি সেখানে নির্মাণ কাজ শুরু করে মালিকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আরেফিন হাসান, করিম মিয়া ও হাফিজ উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে। তাদের সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কয়েকজন শ্রমিকও ছিলেন। প্রায় ২০ মিনিট গাড়িতে অবস্থান করার সময় সীমানা প্রাচীর নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিক ও জমির মালিক ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে কোনো অভিযান পরিচালনা না করেই প্রশাসনের গাড়িও ফিরে যায়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে অংশ নেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার প্রিন্স সরকার এবং শাহরিয়া হাসান। তাদের সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া ও অফিস সহায়ক লোকমান হোসেন জুয়েলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার শাহরিয়া হাসান খান বলেন, “আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কাউকে না পাওয়ায় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। আমরা নজরদারি রাখছি, পরে আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, “কেন অভিযান পরিচালনা না করেই ফিরে এসেছে, বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এ বিষয়ে আমাকে প্রতিবেদন দেবেন। অভিযানের বিষয়ে কোনো ধরনের চাপ নেই।”
Exit mobile version