The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

বাঞ্ছারামপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ, হামলা- ৩ রাউন্ড গুলি, আহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় গুলিতে শিপার মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের গঙ্গানগর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় শিপার মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিপার মিয়া।
অভিযোগে শিপার মিয়া দাবি করেন, ফারুক মাস্টার, সবুজ মিয়া, মোহাম্মদ আলী, সাদেক মিয়া, মরম মিয়া, খোকন মিয়া, টিপু, মরম আলী, সুমন মিয়া, জামান মিয়া, আক্তার মাস্টার ও জাকির হোসেনসহ কয়েকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীদের একজনের নির্দেশে সবুজ মিয়া পিস্তল দিয়ে শিপার মিয়ার বাম পায়ের গোড়ালিতে গুলি করেন। পরে প্রাণ বাঁচাতে তিনি ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা দরজা-জানালা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শিপার মিয়ার দাবি, এ সময় ঘরের আলমারি ও শোকেস ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১০ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার পর হামলাকারীরা তাকে ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গজ্ঞানগর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আল-মদিনা জামে মসজিদের হিসাব-নিকাশ, পরিচালনা কমিটি, মিলাদ-কিয়ামসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফারুক মাস্টারের অনুসারীদের সঙ্গে একই এলাকার কাউসার মিয়ার অনুসারীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে মসজিদটির পরিচালনার দায়িত্ব ফারুক মাস্টারের অনুসারীদের হাতে রয়েছে। গত রমজানে মসজিদের পরিচালনা কমিটি, হিসাব-নিকাশ ও মিলাদ-কিয়াম নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে কাউসার মিয়ার পক্ষের লোকজনকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে এ ঘটনায় ফারুক মাস্টার বাদী হয়ে কাউসার মিয়ার পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় কাউসার পক্ষ রায় পেয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে আদালতের রায়ের নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যেই শনিবারের হামলার ঘটনা ঘটে।
কাউসার মিয়া বলেন, মসজিদের কমিটি, হিসাব-নিকাশ ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গত রমজান থেকে ফারুক পক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছে। তাদের মসজিদে যেতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দাবি করে তিনি ঘটনার বিচার চান।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াছিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীরা ছাড় পাবে না।
Exit mobile version