ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের জয়কালীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রামবাসী ও খাদেমুল ইসলাম মানবকল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফারজানার স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শুকুর আলী প্রধানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আবুল কাশেম, শাহ আলম, মো. মোহন মেম্বার, মো. নাজিম উদ্দিন সরকার, হাফেজ মাহমুদুল হাসান রাসেল, শামীম বেপারী, আলিম আল কাছির, খাদেমুল ইসলাম, মো. সায়মন, আহম্মেদ, আলমগীর হোসেন, মো. আনারুল হক, মো. ফারুক মিয়া, শাহরিয়ার সুজন ও শাকিরুজ্জামান শাকির।
ফারজানা ইসলাম উপজেলার জয়কালীপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ফাজিলের মেয়ে। তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তাঁরা দুজনই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়।
তবে বিয়ের পর স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলহ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যেও বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে এর আগে ফারজানার পরিবারের পক্ষ থেকে নাজমুলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। পরে দুই পরিবারের আলোচনা ও সমঝোতায় মামলাটি নিষ্পত্তি হয় বলে জানান ফারজানার বাবা।
মানববন্ধনে ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলাম ফাজিল অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মেয়েকে স্বামী পরকীয়ার জেরে হত্যা করেছেন। আগেও এ বিষয়ে মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তাঁরা। বিরোধ মীমাংসার পর তাঁর মেয়েকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।
বক্তারা বলেন, ফারজানা ছিলেন একজন মেধাবী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনসহ পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারটি যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।
