ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে নামজারি (খারিজ) ও জমাখারিজের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে উপজেলা ভূমি অফিস।
উপজেলা ভূমি অফিস জানায়, সরকারি ভূমি সেবার নামে একটি প্রতারক চক্র সেবাগ্রহীতাদের বিভ্রান্ত করে নামজারি দ্রুত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কোথাও কোথাও লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে। এতে ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সেবার স্বচ্ছতাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এ কারণে গত বুধবার থানায় জিডি করা হয়েছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে নামজারি ও জমাখারিজের পুরো কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে আবেদন ফি ৭০ টাকা এবং নামজারি অনুমোদন ফি ১ হাজার ১০০ টাকা। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত মোট ফি ১ হাজার ১৭০ টাকার বাইরে কোনো অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন নেই।
তবে সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সক্রিয় একটি দালাল ও প্রতারক চক্র ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে দ্রুত নামজারি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জমির খারিজ করতে আসা বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার কৃষক মো. আজাদ মিয়া বলেন, তিনি সরকারি নির্ধারিত ১ হাজার ১৭০ টাকা পরিশোধ করেই নামজারির কাজ সম্পন্ন করেছেন।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, “উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারির ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত একটি টাকাও দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ ভূমি অফিসের নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অথবা উপজেলা ভূমি অফিসকে জানান।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতারকদের সঙ্গে ভূমি অফিসের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
