The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়লো ডাইভারসন রোড, কসবা-আখাউড়া যান চলাচল বন্ধ

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-কসবা আঞ্চলিক সড়কের আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ এলাকার কাকিনা খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর পাশের বিকল্প সড়ক (ডাইভারসন) ভেঙে গেছে।
এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে আখাউড়া-কসবাসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে পানির তীব্র স্রোতে বিকল্প সড়কের একটি অংশ ভেঙে যায়। এর ফলে আখাউড়া-কসবা আঞ্চলিক সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকল্প সড়কের প্রায় ২০ ফুট অংশ পানির স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে গ্রামের ভেতরের বিকল্প পথ ব্যবহার করে প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করছে। প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষকেও দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বিকল্প সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় আখাউড়া ও কসবা উপজেলার পাশাপাশি মোগড়া ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হওয়ায় সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটোই বেড়ে গেছে।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ি কসবা উপজেলায়। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে অফিসে যাতায়াত করি। ডাইভারসন ভেঙে যাওয়ায় এখন অনেক ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা খুবই ভোগান্তির।
ময়মনসিংহ থেকে কসবা যাওয়ার উদ্দেশ্যে আসা যাত্রী সাদেক মিয়া বলেন, এখানে এসে দেখি রাস্তা বন্ধ। এখন অনেক ঘুরে যেতে হবে। এতে সময় ও কষ্ট দুটোই বাড়ছে।
নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মাসুম মিয়া বলেন, গত রাতে পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোতে বিকল্প সড়কটি ভেঙে গেছে। পানি কমে গেলে দ্রুত ডাইভারসন পুনর্নির্মাণ করা হবে।
আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে বিকল্প সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় সড়কটি নির্মাণ করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় দেড় বছর আগে কাকিনা খালের পুরোনো সেতুটি দেবে যাওয়ার পর সেখানে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থের নতুন সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ চলাকালে যান চলাচলের জন্য পাশেই অস্থায়ী বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল।
Exit mobile version