দীর্ঘ সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পরিচয় শনাক্ত হলো মাসুদ রানা (৪৭)-এর। অজ্ঞাত পরিচয়ে পড়ে থাকা এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৮টার দিকে “ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর”-এর সহায়তায় মরদেহটি মাসুদ রানার বাবা এস এম ফারুক আহমেদ ও খালাতো ভাই মো. আসলাম হোসেন রাজুর কাছে হস্তান্তর করা হয়। জীবিত অবস্থায়ও সংগঠনটি তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহায়তা করেছিল। পরিবারের সম্মতিতে দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহটি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পোস্টের ভিত্তিতে মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এর আগে বুধবার (৩ জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা এলাকায় কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাসুদ রানা মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার পাটাভোগ ইউনিয়নের মাশুরগাঁও গ্রামের এস এম ফারুক আহমেদের একমাত্র ছেলে। তিনি দুই বোনের ভাই ছিলেন।
পরিবার জানায়, ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিনি নিখোঁজ হন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও সন্ধান না পেয়ে ২০ ডিসেম্বর শ্রীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। মাসুদ রানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। জীবিকার জন্য তিনি গ্রামের বাড়ির সামনে একটি মুদির দোকান পরিচালনা করতেন।
ছোটবেলায় তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করেন। তবে জীবনের নানা সংকট ও পারিবারিক অস্থিরতা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে বলে স্বজনদের দাবি। মাসুদ রানার পিতা এস এম ফারুক আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছেলের খোঁজ না পেয়ে পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। তিনি বলেন, “ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছিল, কিন্তু মরদেহ হয়ে ফিরে আসবে, তা কখনো ভাবিনি।” তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “পিবিআইয়ের সহযোগিতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ শনাক্ত ও হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
