The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

নাসিরনগর লঙগন নদীতে ৭ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন:: মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে চলছে নৌযান

নিজস্ব প্রতিবেদক::  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ভলাকুট ও গোয়ালনগর ইউনিয়নের লঙগন নদীর উপর দিয়ে নির্মিত প্রায় ৭ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নিয়ে মানুষের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসব লাইনের খুঁটিতে চালু রয়েছে ১১ কেভি ও ১১ হাজার ভোল্টের সঞ্চালন লাইন। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টদের দাবী নৌ পথের যোগাযোগ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কিছু স্থানে বাশঁ দিয়ে টাওয়ার তৈরি করাসহ তারে সাঁটানো হয়েছে লাল নিশানা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভলাকুট ও গোয়ালনগরের কিছু এলাকার নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের জন্য লঙগন নদীর উপর দিয়ে ২০১৫ সালের দিকে প্রায় ৬ কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা ব্যায়ে ৭ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন দেয়া হয়। ২ হাজার আটশ গ্রাহকের জন্য এসব লাইনে বসানো হয়েছে ৭৫টি ট্রান্সফরমার।

গোয়ালনগর ও ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একেকটি খুঁটির দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট। বর্ষার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি খুঁটি ৩৫ ফুট পানির নিচে চলে গেছে। এতে নৌযান চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। মৃত্যু ঝুঁকি জেনেও চলছে সকল প্রকার নৌযান। বর্ষার পানি বৃদ্ধির পর থেকেই এসব এলাকায় রাতে থাকেনা বিদ্যুৎ। প্রচন্ড গরমে শিশু-বৃদ্ধ, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। সামান্য ঝড়বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে তার ছিঁড়ে নদীর পানিতে পড়ে থাকে। ২০০৪ সালের পর এ এলাকায় বন্যা না হওয়ায় বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়নি।
এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পানি আর ভারী বর্ষণে উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে হাওর বেষ্টিত ভলাকুট ও গোয়ালনগর ইউনিয়নের চারদিকে শুধু পানি আর পানি। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদ্যুতিক লাইনের সাথে ক্লিয়ারেন্স কমে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নিরাপদ রাখতে গত ২১ জুলাই অস্থায়ীভাবে বাঁশ দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে নাসিরনগর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির লোকজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়ালনগর গ্রামের এক স্কুল শিক্ষক এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘যেখানে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক খুঁটিই পানির চাপ নিতে পারেনা সেখানে বাশেঁর খুঁটি দিয়ে কৃত্তিম টাওয়ার তৈরি করে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন ঝুঁকিমুক্ত রাখবেন? বিষয়টিকে অধিক গুরত্বের সহিত নিয়ে স্থায়ী সমাধান করার দাবী জানাচ্ছি।
একই গ্রামের মোহনলাল দাস জানান, নদীর উপর দিয়া কারেন্টের (বিদ্যুৎ সংযোগ) লাইন গেছে। একটু বাতাস আইলেই কারেন্টের (বিদ্যুৎ) তার ঝুলতে থাকে আর কারেন্টও বন্ধ কইরা দেয়। মাঝে মধ্যে কারেন্টের তার ও ছিঁড়া যায়। হের পর ৪/৫ দিন আর কারেন্ট আয়েনা। আর ভোল্টেজ আপ-ডাউনত আছেই।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক জানান, ভৌগলিক বিবেচনায় গোয়ালনগর ইউনিয়ন একটি জটিল জনপদ। এখানকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা নৌকা। নদীর উপর বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খুঁটির দূরত্ব বেশি হওয়ায় বিপদজনকভাবে নিচু অবস্থায় সঞ্চালন লাইন ঝুলে আছে। তিনি আরো জানান, বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হচ্ছে হাওর পাড়ের বাসিন্দাদের।

ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন জানার পরো কিভাবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখছেন জানতে চাইলে নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাসার সামছুদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘বর্ষার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথেই আমরা গোয়ালনগরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত বন্ধ রাখতাম। কিন্তু ঈদ চলে আসায় মানুষের কথা চিন্তা করে সন্ধ্যার পর লাইন চালু করার সিদ্ধান্ত নেই। এ বিষয়টি আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত আছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘গোয়ালনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক আমাদের অফিসে একটি লিখিত দিয়েছেন, ‘সকাল-সন্ধ্যায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নৌযান চলাচল স্বভাবিক রাখতে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা পাহারার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল নিশান দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় মাইকিং করে জানানো হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে নৌযান চালাতে। তবে বর্ষা শেষ হলে ৬৫ ফুট দৈর্ঘ্যের বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো হবে বলে জানান তিনি।’

Exit mobile version