
বৃহস্পতিবার বিকালে নাসিরনগর থানা পুলিশের উদ্যোগে স্থানীয় গৌর মন্দির চত্বরে সংর্বধনা অনুষ্ঠানটি গণসংর্বধনায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম এমপি। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ,শিক্ষক সমাজ,গণমাধ্যম কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে তার হাতে পুলিশসহ গৌরমন্দির ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দরা সম্মান সূচক ক্রেষ্ট তুলে দেয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার এসপি মিজানুর রহমান নাসিরনগর গৌরমন্দিরে শেষ বিদায় বেলায় তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, নাসিরনগরের মানুষের সাথে যে সম্পর্ক আমার তৈরী হয়েছে তা রক্তের সম্পর্কের চেয়ে বড়। এখানকার মানুষ আমার আত্মার আত্মীয়। এই সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হবার নয়। আমি বাংলাদেশের যেখানেই যাইনা কেন সব সময় আমার মোবাইল ফোন নাসিরনগরবাসীর জন্য খোলা থাকবে। শুধু একবার ফোন করবেন আমি আপনারে সুখে-দুখে পাশে থাকব। তিনি আরো বলেন, নাসিরনগর যখন একটি ক্রান্তি লগ্নে তখন আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করি। আমি চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম। সাম্প্রাদায়িক অশুভ শক্তিকে চিরতরে ধ্বংশ করব। নাসিরনগরের মানুষের শত বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনার গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনব।
তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা নাসিরনগরের অনাগত ভবিষৎকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আলোকিত মানবিক সমাজ বিনির্মাণের। নাসিরনগরে যখন চলছিল ক্রান্তিকাল তখন তিনি নাসিরনগর এসেছেন মানবতার অসম্প্রদায়িক ফেরিওয়ালা হয়ে। দেখিয়েছেন স্বপ্ন,শিখিয়েছেন বেচেঁ থাকার স্বপ্লীল রোমাঞ্চ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবু জাফর। ওসি (তদন্ত) রঞ্জন কুমার গোপের সঞ্চলনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন,উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) উম্মে সালমা,উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ডাঃ রাফিউদ্দিন আহমেদ,বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজ্বী আবদুল বাকি,কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মোঃ আবদুর রহিম ও গৌর মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক নির্মল চৌধুরী প্রমুখ।