
ভোটের মাঠের হিসেব যাই হোক কাছাকাছি সভামঞ্চ থাকার এমন চিত্র শনিবার দেখা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আশুতোষ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে। আর এ অবস্থানগত চিত্রকেই নাসিরনগরের ভোটের প্রতিচ্ছবি বলছেন চায়ের কাপের আড্ডায় ঝড় তোলা মানুষগুলো। তর্কের খাতিরে তর্ক। তর্কের পিষ্টে তর্ক। কথার জন্য কথা, কথার চলে কথা। কোনটা যৌক্তিক আবার কোনটা অযৌক্তিক। কেউ রেগে কেউবা হেসে। এভাবেই চলছে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ। চা’য়ের স্টলে আসন্ন সংসদ উপনির্বাচনের জয় পরাজয়ের হিসেব। কেউ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলছেন সংগ্রাম ভাই আবার কেউ বলছে রেজওয়ান ভাই। থেমে নেই কেউ। চা’য়ের স্টলে জয় পরাজয় নির্ধারণ করছেন এখানকার সাধারণ ভোটাররা। চায়ের স্টলে নির্বাচনী এই আবহ থেকে বাদ যেতে চাচ্ছেনা সরকারী কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলের সচেতন ব্যক্তিবর্গ। সবাই চায়ের স্টলে বসলে একটু হলেও জানতে চান শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছে নাসিরনগরের নির্বাচিত অভিভাবক।
তাদের অভিমত“আ.লীগ সরকার দলীয়। তাই নির্বাচন নিরপেক্ষ করার গুরুদায়িত্ব বর্তায় তাদের উপর। বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিএনপির ভোট ব্যাংকের গোপন নাম্বার আয়ত্বে নিয়েছে জাতীয় পার্টি। আর বিএনপির নেতারাও যে কোন মূল্যে আ.লীগকে রুখতে চান।” সে জন্য তারা সকল ধরনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছেন। যদি এবার আ.লীগকে আটকে দেয়া যায় তাহলে তাদের জন্য একাদশ নির্বাচনে জয়লাভ সহজ হবে। এখন প্রশ্ন হল ঠিক থাকবে তো এ সমীকরণ? না কি চায়ের কাপের গরম ধোয়ার মত নিমিষেই মিলিয়ে যাবে হাওয়ায়?
নাসিরনগরে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী জনসভা এবং আ.লীগের জনসভা একই মাঠে একই দিনে পাশাপাশি মঞ্চে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ রাজনীতিতে একটি সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চার উর্বর ভূমি হাওয়র বেষ্টীত এ নাসিরনগর এটা যেন আবারও প্রমাণ করল। যেখানে নেই রাজনীতির নামে অপরাজনীতির অসুস্থ ধারা।
সম্প্রতি নাসিরনগরে এসে ভোটকারচুপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে গেছেন নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, এ নির্বাচন হবে একাদশ নির্বাচনের মহড়া। যদি নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য বাস্তবায়িত হয় তাহলে কি হাওর বেষ্টিত ৫ বার জয়ী আসনে কে হাসবে শেষ হাসি আওয়ামীলীগ? না জাতীয় পার্টি। কারণ রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। জনমত যে কোন সময় যে কোন দিকে প্রবাহিত হতে পারে। আগামী ১৩ মার্চই করতে পারে সকল প্রশ্নবোধক চিহ্নের অবসান।