
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য এমনিতেই নাসিরনগরের বিভিন্ন সিএনজি ষ্টেশনের ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তার ওপর ঈদের আগ থেকে সকল সিএনজি ষ্টেশনেই চলছে ঈদ বোনাসের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়।
বুধবার সকালে সন্জয় কুমার দেব নামে একজন স্কুল শিক্ষক গুনিয়াউক বন্ধুর সাথে দেখা করতে আনন্দপুর ষ্টেশন হতে যাওয়ার জন্য সিএনজিতে উঠেন। তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, আনন্দনপুর ষ্টেশন হতে মালিক সমিতি কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া ৩৫ টাকা। কিন্তু ড্রাইভার আমার কাছে দাবী করে ৫০ টাকা।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা জানতে চাইলে তারা বলেন ভাই এটা ঈদ বোনাস।’ বোনাস দিলে গাড়িতে উঠেন না হলে হেটে চলে যান।
অন্যদিকে নাসিরনগর হতে সরাইল বিশ্বরোডের ভাড়া সিএনজি সমিতি কর্তৃক নির্ধারিত ৩৫ টাকা। কিন্তু তারা কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া ভাবে বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শফিক নামে একযাত্রী বলেন ,‘আমি বিশ্বরোড থেকে নাসিরনগর এসে ৪০ টাকা দিয়েছি। কিন্তু ড্রাইভার বাড়তি টাকার জন্য আমার সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে দুর্ব্যবহার করেছে, টাকা দেইনি বলে আমাকে শারীরিক ভাবে লান্ছিত করেছে। আমিও ছাড় দেইনি। তবুও বাড়তি টাকা দেইনি।’ তিনি বলেন , ‘আমরা যারা খেটে খাওয়া মানুষ, আমাদের প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। আমাদেরকে কে ঈদ বোনাস দেয়? আমরা কেন ঈদ বোনাসের নামে জোর করে নেয়া বাড়তি টাকা দেব?’
আনন্দনপুর সিএনজি অটোরিকশা সমিতির সভাপতি বলেন , ‘আমাদেরতো ঈদ করতে হয়। সারা বছরতো আমরা বাড়তি টাকা নেই না। ঈদ উপলক্ষে ক’টাকা বাড়তি নেই বোনাস হিসেবে। এটাতো কোনো অপরাধ না।’
নাসিরনগর খেলার মাঠ সংলগ্ন সিএসজি অটোরিকশা সমিতির সভাপতি মো: আকির মিয়া এ প্রতিনিধিকে জানান, আমরা কোন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা বলিনি। যদি কেউ ঈদ বোনাসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: লিয়াকত আলী বলেন, বিষয়টি খুবই দু:খজনক। আমি এখনই এর ব্যবস্থা গ্রহন করছি।
উল্লেখ্য ঈদের আগে ও পরে ঈদ বোনাসের নামে ভাড়া নৈরাজ্য নিয়মে পরিনত হয়েছে। প্রতিবছর ঈদের সময় যাত্রীদের জিম্মি করে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করে। এ বিষয়ে দেখার যেন কেউ নেই।