
আনন্দঘন পরিবেশে শনিবার দুপুরে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার পিঠার ঐতিহ্য আবারো ফিরে আসবে বলে জানান উৎসবে অংশ গ্রহণকারীরা।
আয়োজকেরা জানান, হাওর পারের উচ্চ শিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপিঠ নাসিরনগর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব। প্রথম বারের মতো এই উৎসবকে কেন্দ্র করে অংশ নেয়া পিঠার স্টল গুলোতে ছিল জামাই পিঠা,পাটিসাপটা, ভাপা, চিতই, কুলি, নকশি, পাকনা, ডিমের পুডিং, চন্দনকুলি, মালপোয়া। পিঠার রঙ্গ আর গন্ধের সাথে উৎসবে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা ছিলেন পুলকিত।
মেলায় পিঠার স্টল নিয়ে অংশ গ্রহণকারী নাসিরনগর সরকারী কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শতরূপা দাস জানান, প্রথমবার উৎসবে অংশ গ্রহণ করেছি। মা, দিদিমার কাছ থেকে আইডিয়া নিয়ে ভাপাপিঠা, পাটি সাপটা ও দুধপুলি বানিয়েছি। আমরা চাই প্রতি বছর যেন এমন আয়োজন করা হয়।
মেলায় দর্শনার্থী আঁখি চৌধুরী জানান, মা-বাবার কাছে অনেক পিঠার কথা শুনেছি। আজ এই পিঠা উৎসবে অনেক পিঠার সাথে পরিচিত হয়েছি। আমরা চাই নতুন প্রজন্মের পরিচিতির জন্যে হলেওযেন প্রতি বছর এমন আয়োজন করা হয়।
অপর দর্শনার্থী অনিক সরকার জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা পুলি হারাতে বসেছে। চিপস আর আর্টিফেসিয়াল কেকের কারণে পিঠা পুলি অনেকে ভুলতে বসেছি।
এই উৎসবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম অনেক কিছু শিখতে পারবে। এই উৎসব যেন ম্লান না হয়, ‘প্রতিবছর যেন এমন বর্ণিল আয়োজন করাহয় এই দাবী জানান তারা’।
নাসিরনগর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মো.আলমগীর হোসেন জানান, মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আজকে নাসিরনগর ডিগ্রি কলেজের পক্ষ থেকে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই এলাকার অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য আজকের এই পিঠা উৎসবের আয়োজন। আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীরা ৩৪ টি স্টলে পিঠা নিয়ে এসেছে। আমরা উৎসবের মধ্যদিয়ে পিঠা পুলির ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাই।
আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম জানান, এই উৎসবের মধ্যদিয়ে নাসিরনগরকে নতুনকরে বহি:বিশ্বের মানুষ চিনবে। আমরা এই ধারাবাহিকতা আগামী দিন গুলোতে অব্যাহত রাখবো।
পিঠা উৎসবে কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।