
চোর, ডাকাত বা পুলিশের ভয়ে নয়। গ্রামবাসী দল বেঁধে লাঠি, বাঁশি ও টর্চ লাইট হাতে রাত জেগে মন্দির ও হিন্দুসম্পদ্রায়ের বাড়িঘর পাহারা দেন সম্প্রীতি নিশ্চিত রাখতে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাত জাগার এই ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সদরের বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া মহল্লার। সঙ্গে প্রতিদিন রাতভর পুলিশ ও বিজিরি সদ্যরাও টহল দিচ্ছেন। এটি এখন নাসিরনগরের প্রতিদিনের রাতের চিত্র
গত শুক্রবার রাত এগারটার দিকে দেখা যায় দত্তপাড়া মন্দিরের বাইরে পুলিশ সদস্যরা বসে আছে। এর পাশেই সুখ অফিসের সামনে বিজিপির একটি টহল দল।এদিকে গৌর মন্দিরের ভেতরে ঢুকতেই আর্ম পুলিশের একটি তাবু চোখে পড়ে।
আর্ম পুলিশ সূত্র জানায়, তিনজন সদস্য বিকেল চারটা থেকে রাত একটা পর্যন্ত পাহাড়ার দায়িত্ব আছে। পরে অন্যদল আসবে। তারা জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে।
শুক্রবার রাতে দত্তপাড়ায় আটজন পাহাড়ায় ছিলেন। এর মধ্যে সাতজন মুসলমান। দলের নেতৃত্ব দেওয়া মোঃ দুলাল বলেন, রাত ১২টার পর হতে ভোর পাচঁটা পর্যন্ত আমরা দুটি দলে ভাগ হয়ে পাহাড়া দেই। তারা আরো জানান এলাকায় অপরিচিত লোক দেখলে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করি।
বনিকপাড়ায় পাহাড়া দেয়া সাংবাদিক আক্তার হোসেন ভূইয়া বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ও জনস্বার্থে একদিন আমরা কষ্ট করতে রাজি আছি। তবে আমাদের হিন্দু মুসলমানের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই। আমরা ১২দিন পরপর প্রত্যেকেই পাহাড়া দেই।
দাসপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় ছয়জনের একটি দল পাহাড়া দিচ্ছে। পালাক্রামে এখানে দল বেঁধে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত পাহাড়া দেয়া হয়।
দাসপাড়ার জয়নগর এলাকায় ছয়জনের একটি দল ও পশ্চিমপাড়ার চেংগাপুর মহল্লায় আটজনের একটি দলকে পাহাড়া দিতে দেখা গেছে। তারা বলেন মহল্লার বিভিন্ন দিকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ঘুরাফেরা করেন। বাঁশি বাজিয়ে সতর্কবানী দেওয়া হয়।
এ ব্যপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসাইন বলেন, আইনশৃঙখলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগন স্ব উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে এসেছে। কিছু মহল্লায় প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ভোররাত পাঁচটা পর্যন্ত আবার কোথাও রাত এগারটা হতে থেকে পাঁচটা পর্যন্ত এলাকাবাসী পাহাড়া দেয়।