
এখন এই নাতনী ও নাত জামাইয়ের আয় রোজগারে চলে কুশুম্ব বালার ৮ জনের বৃহৎ সংসার।
নাতনী সম্পা পেটের দায়ে ইট ভাংগা শ্রমিকের কাজ করেন। নাত জামাই দুলাল সরকার পেশায় কাঠ মিস্ত্রি। প্রতিদিন কাজ থাকেনা, তাই নৈমিত্তিক আয় রোজগার ও থাকেনা,ফলে খাবারো জোটেনা প্রতিদিন।
আজ রবিবার কুশুম্ব বালা সরকারের বড়িতে গেলে তিনি জানান- কোনো বাড়ি-ঘর ও জায়গা জমি নেই এই পরিবারটির। থাকেন অন্যের বাড়িতে আশ্রিত।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম বাজার সংলগ্ন শুভাষ গাঙ্গলীর বাড়ির এক কোনে চালাঘর তুলে মাথাগোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন তারা।
অসহায় কুশুম্ব বালা সরকার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আক্ষেপ করে বলেন- “লোকের কাছে হুনি শেখ হাসিনায় নাকি আমাগো মতো গরীব মাইনসেরে জায়গা জমি দিতাছে,ঘর বানাইয়া দিতাছে,একটা ঘরে মাইয়া নাতি পুতি লইয়া অতি কষ্টে থাহি, আমাগো যদি কদ্দুর মাথা গুজনের জায়গা কইরা দিতো”!
সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সাহায্য সহযোগীতা পান কিনা?জানতে চাইলে তিনি আরো জানান-“সাহায্য সহযোগীতা দিবো কইয়া অনেকবার কাগজ পত্তর ও ছবি নিছে,কিন্তুু তেমুন কিছু পাইনাই।”
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, এই অসহায় পরিবাটিকে সরকারি ঘর দেওয়া দরকার ছিলো। যারা আনেক টাকা পয়সার ও জমি-জমার মালিক তাদের অনেকেই সরকারি ঘর সহ সহায়তা পাইছে। এই অসহায় পরিবারটিকে কেউ দেখেনা।
এ বিষয়ে শ্যামগ্রাম ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার রঞ্জন দেবনাথ জানান, মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই না থাকায় আমার ওয়ার্ডের শুভাষ গাঙ্গলী দাদা দয়াপরবশত ওদের বাড়ির এক কোনে সামান্য একটা চালা তুলে থাকতে দিয়েছেন। এতো আসহায় একটি পরিবারকে কেন সরকারী সাহায্য সহযোগীতা দেয়া হচ্ছেনা, কেন বঞ্চিত হচ্ছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন-আমার পূর্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কতটুকু সহায়তা করেছেন,কিম্বা কেন করেননি সে বিষয়ে আমার জানা নেই। নব নির্বাচিত মেম্বার হিসাবে সরকারী সাহায্য সহযোগীতা যতটুকু পাই পরিবারটিকে দিতে চেষ্টা করবো।