ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শরীফুল ইসলাম শরীফের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শরীফুল ইসলাম শরীফসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার মিরপুর নতুন বাজারে যাওয়ার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনেরা। আহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন হাজী সাহেদ মিয়া, হেলাল উদ্দিন ও সেলিম। আহতদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আহত শরীফুল ইসলাম শরীফের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর স্বজনেরা। পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগে তাঁর ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল। বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শরীফুল ইসলাম শরীফের অভিযোগ, মিরপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বশির মোল্লাসহ একটি পক্ষ নিষিদ্ধ ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছিল। এ ঘটনায় নবীনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে ড্রেজারের সরঞ্জাম জব্দ করেন এবং কিছু সরঞ্জাম নষ্ট করা হয়। ওই ঘটনার জেরে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় কাদির মোল্লার নেতৃত্বে আলী আজ্জম, বশির মোল্লা, ইব্রাহিম ও হানিফ মোল্লাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন শরীফ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শরীফুল ইসলাম শরীফের বড় ভাই ফরহাদ হোসেন বলেন, তাঁর ছোট ভাই এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং মানুষের উপকারে কাজ করতে আগ্রহী। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে।
ফরহাদ হোসেনের অভিযোগ, ব্যবসায়িক বিরোধের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিরোধ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের বিষয়ও হামলার পেছনে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, তাঁর ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আল্লাহর ইচ্ছায় আমার ভাই বেঁচে আছেন। আপনারা সবাই দোয়া করবেন, যেন তাঁকে সুস্থ অবস্থায় আবার আমাদের মাঝে ফিরে পাই।”
শরীফুল ইসলাম শরীফের সমর্থক মিজান মিয়া বলেন, “শরীফ মানুষের উপকার করতে ভালোবাসে, কারও ক্ষতি করতে নয়। শরীফ সম্পর্কে জানতে হলে সাংবাদিকেরা পুরো গ্রামে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তিনি কারও সঙ্গে মারামারি চান না। তাঁর ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
মিজান মিয়াও অভিযোগ করেন, হামলার পেছনে শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা থাকতে পারে। বিষয়টি পুলিশ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, মিরপুর নতুন বাজারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলে দাবি করা হয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, ওই পক্ষের সদস্যদের কেউ কেউ মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, “এ ঘটনায় আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। শিবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে (আইসি) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। শরীফুল ইসলাম শরীফের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
