
ওইদিন করোন পরিস্থীতিতে বাড়িতে আসা রিকশাচালক মোবারক মিয়ার (৪৫) একটি পা কেটে কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে পৈশাচিকভাবে আনন্দ করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহত মোবারক ঘটনার চার দিন পর গত ১৫ এপ্রিল মোবারক মারা যান।
গত ১২ এপ্রিল রোববার সংগঠিত লোমহর্ষক বর্বর এ ঘটনায় জড়িত ক’জনের নাম ঘটনার পরপরই প্রকাশ করেন মোবারক। তারা হচ্ছেন থানাকান্দি হাতবাড়ি গ্রামের সিরাজের ছেলে খোকন, হাজিরহাটি গ্রামের মাঈনুদ্দিনের ছেলে রুমান, ,জিল্লুরের ছেলে শাহিন ও মালির ছেলে জাবেদ। পা কেটে নেয়ার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনায় জড়িত এই ক’জনের নাম প্রকাশ করে নিহত মোবারক। বাকীদের সে চিনতে পারেনি বলে জানায়। তার এই বক্তব্য কেউ মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করে ফেইসবুকে ছেরে দেয়।
এ সংঘর্ষের ঘটনার ছয় দিন পর ১৭ এপ্রিল শুক্রবার রাতে নিহতের চাচাতো ভাই চাঁন মিয়া বাদী হয়ে ১৫২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।দায়ের হওয়া এ হত্যা মামলায় পার্শ্ববর্তী বীরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির আহমেদকে ‘প্রধান আসামি’ করা হলেও আলোচিত এ মামলায় বিবাদমান দুই গ্রুপের একটি গ্রুপের দলনেতা কাউছার মোল্লাকে করা হয়েছে ২ নম্বর আসামি । এ ছাড়া স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু কাউছারকেও এ মামলায় ৩ নম্বর আসামি দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনাম আরো ১৫০ জনকে মামলায় আসামি দেখানো হয়।বর্তমানে মামলার পর থেকে অজইরা গ্রুপের লোকজন পলাতক রয়েছে। এ সুযোগে তাদের প্রতিপক্ষ সরকার বাড়ির গোষ্টির লোকজন এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে লোটপাট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশ জানায়,এ সংঘর্ষের নেতৃত্ব দানকারি প্রধান দুই আসামি সরকার বাড়ির গোষ্টির প্রধান ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ও আজইরা বাড়ীর গোষ্টির প্রধান কাউছার মোল্লা সহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাশুকুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে তারা। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।
নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. রুহুল আমিন জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পর ওই এলাকাগুলিতে তিনটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করা হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত ৭৭ জন আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।