The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

নবীনগরে কবস্থানের উপর দিয়ে রাস্তা তৈরি নিয়ে উত্তেজনা

মিঠু সূত্রধর পলাশ,নবীনগর সংবাদদাতা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কণিকাড়া গ্রামে দুইশ বছরের পুরনো কবরস্থানের ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নেয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ নিয়ে এলাকার শত-শত মানুষের স্বাক্ষরসহ কবরস্থানের ওপর দিয়ে রাস্তা না করার দাবিতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে লিখিত আবেদন দিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকার বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্য,মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ নানা শ্রেণি-পেশার এক হাজার ১৬০ জন মানুষ কবরস্থানটি রক্ষার জন্য লিখিত আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।
লিখিত আবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা সড়কটি নবীনগর উপজেলার কনিকাড়া এলাকায় দুইশ বছরের পুরনো কবরস্থানের ওপর দিয়ে করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্রাহ্মণহাতা সেতু থেকে নবীনগর পর্যন্ত সড়কের নবীনগর সীমানার কণিকাড়া অংশে সড়কটি ওই কবরস্থানের পাশ ঘেঁষে গেছে। সওজ ইতোপূর্বে কবরস্থানের দক্ষিণ পাশ দিয়ে রাস্তা করার জন্য সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা টাঙিয়ে জায়গা চিহ্নিত করেছে। এতে স্থানীয় প্রভাবশালী ৪-৫ জনের বাড়ির জায়গা পড়ায় তারা রাস্তার সীমানা ঘুরিয়ে দিতে তৎপর হন।
গত ১৭ মে গ্রামবাসীর গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদন দেয়া হয় সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে। এর পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
কণিকাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জানান, কবরস্থানটি প্রায় সাড়ে পাঁচশ ফুট লম্বা। এর পশ্চিম দিকে একশ এবং পূর্ব দিকে দেড়শ ফুট প্রশস্ত। কবরস্থানের পশ্চিম দিকের সরু অংশ থেকে ১৬ ফুট করে জায়গা রাস্তার জন্য নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পশ্চিম থেকে পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত এভাবে রাস্তার জন্য কবরস্থানের জায়গা নেয়া হবে। এতে কবরস্থানের জায়গা ছাড়াও অনেক লোকের ঘর-বাড়ি ভাঙা পড়বে। এলাকার মানুষ কবরস্থানের দক্ষিণপাশের নালভূমি দিয়ে সড়কটি করার দাবি জানান।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু এহতেশাম রাশেদ জানান, কবরস্থানের ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরির অভিযোগটি সঠিক নয়। রাস্তা যেন না হয় সেজন্য একটি গ্রুপ এসব উল্টা-পাল্টা কথা ছড়াচ্ছে। তবে কবরের সীমানার দেয়ালটা রাস্তায় নিয়ে আসা হয়েছে। সেজন্য দেয়াল হয়তো ৩-৪ ফুট সরাতে হবে। তবে যেটুকু সরাতে হবে সেখানে কোনো কবর নেই।

Exit mobile version