The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

নবীনগরে আতিকুর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি, গ্রেপ্তার ৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সেলুনকর্মী আতিকুর রহমান (১৯) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাগর (২০) এবং তদন্তে নাম আসা সাদ্দাম (৩৬) ও বোরহান (২২)।
পিবিআই জানায়, বুধবার (১২ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে আখাউড়া উপজেলার খরমপুর কেল্লা শাহ মাজার এলাকা থেকে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভাদুঘর এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ের সামনে থেকে সাদ্দাম ও বোরহানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ববিরোধের জেরে আতিকুরকে প্রথমে লাথি মেরে অচেতন করা হয়। পরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে পুকুরে নিয়ে গাছের শিকড়ের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাগর আতিকুরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ১২টা ও রাত ১টা ৩ মিনিটে মুঠোফোনে মাকে ফোন করে আতিকুর জানান, তিনি ঈদগাহে আছেন এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ফিরবেন। এরপর তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন বাড়িতে না ফেরায় স্বজনেরা তাকে খুঁজতে থাকেন। ১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের রুস্তুম হাজী ও বাচ্চু হাজীর যৌথ পুকুর থেকে আতিকুরের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তার মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার রাতে আতিকুর, সাগরসহ কয়েকজন বোরহানের ঘরে মাদক সেবন ও লুডু খেলছিলেন। একপর্যায়ে পূর্ববিরোধের জেরে আতিকুরের সঙ্গে বোরহানের তর্কাতর্কি হয়। এ সময় বোরহান আতিকুরের অণ্ডকোষে লাথি মারলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে সাদ্দামের নির্দেশে আতিকুরকে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাদ্দাম একটি কালো ওড়না এনে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন এবং অন্যদের তাকে চেপে ধরতে বলেন।
পিবিআই জানিয়েছে, এ সময় দুলাল আতিকুরের দুই পা, ইমন দুই হাত এবং বোরহান বুকের ওপর চেপে বসেন। পরে সাদ্দাম ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করলে তার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যার পর লাশ গুমের পরিকল্পনা করা হয়। একটি বস্তায় লাশ ঢুকিয়ে সাগর মাথায় করে পুকুরে নিয়ে যান। পরে পানিতে গাছের শিকড়ের সঙ্গে লাশটি বেঁধে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করতে আতিকুরের একজোড়া জুতো বাঁশঝাড়ে লুকিয়ে রাখা হয় বলেও পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার আরও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Exit mobile version