The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

নদী রক্ষা কমিটির সভায় নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে যৌথবাহিনীর অভিযানের দাবি উত্থাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে শিগগিরই যৌথবাহিনীর মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ও নতুন চর রক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে অন্তত তিন হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা নদীরক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক পীযুষ কান্তি আচার্য। দৈনিক আগামীর সময়-এ প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তিনি বিষয়টি সভার নজরে আনেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে নরসিংদীর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিগগিরই যৌথবাহিনীর মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের ধরাভাঙ্গা গ্রামে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকেরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার কয়েকটি বালু উত্তোলনকারী চক্র ইজারা ছাড়াই নবীনগরের ধরাভাঙ্গা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে বালু তুলছে। দিনের বেলায় নদীর মাঝখান থেকে বালু উত্তোলনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও নদীর তীরবর্তী অংশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
এতে নদীতীরবর্তী নতুন চর ও আশপাশের কৃষিজমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে কৃষিনির্ভর মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। অন্যথায় কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীতীরবর্তী কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
জেলা নদীরক্ষা কমিটির সভায় যৌথবাহিনীর অভিযানের আশ্বাস পাওয়ার পর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Exit mobile version