The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণ নিয়ে রুমিনের বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য: বাংলাফ্যাক্ট

জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকারের সময়কার দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় রুমিন ফারহানা বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকটের পাশাপাশি দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণ বাড়ার বিষয়ে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য যাচাই করে বাংলাফ্যাক্ট বলেছে, বক্তব্যের কয়েকটি দাবি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাংলাফ্যাক্টের যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতি ধারণা সূচকে সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। তবে ২০০১ সালের সূচক তৈরিতে আগের কয়েক বছরের তথ্য-উপাত্ত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। ওই বছরের অক্টোবরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে। ফলে ২০০১ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের পুরো দায় সদ্য ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের ওপর দেওয়া সঠিক নয় বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ২০০১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের সিপিআই স্কোর ছিল শূন্য দশমিক ৪। পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে তা বেড়ে ১ দশমিক ৭ এবং পরে ২ দশমিক ০-এ উন্নীত হয়। একই সময়ে দুর্নীতি দমন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করা হয়।
খেলাপি ঋণের বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে যে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে বিভিন্ন সময়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত, ঋণ পুনঃতফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাব ব্যবস্থাপনার অনিয়মের ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু সমস্যাগ্রস্ত ঋণ দীর্ঘদিন নিয়মিত হিসেবে দেখানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা এবং দেশি-বিদেশি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষার মাধ্যমে আগে আড়ালে থাকা খেলাপি ঋণ ও অনিয়মের তথ্য সামনে আসে বলেও বাংলাফ্যাক্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পুরো পরিমাণকে নতুন করে সৃষ্টি হওয়া সংকট হিসেবে দেখলে এর পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট বাদ পড়ে যায় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে তথ্যগত অসঙ্গতি পাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয় বলেও উল্লেখ করেছে বাংলাফ্যাক্ট। এর আগে বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে—এমন একটি দাবি করেছিলেন তিনি।
ওই দাবিরও পূর্ববর্তী যাচাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাফ্যাক্ট। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে বন্ধ হওয়া কারখানার সংখ্যা ৯ শতাধিক নয়, ৯৫টি। পাশাপাশি চাকরি হারানো ও কারখানা বন্ধের ঘটনাগুলোর সময়কালও রুমিন ফারহানার উল্লেখ করা সময়সীমার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি বলে জানানো হয়েছে।
Exit mobile version