দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এর মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং জনদুর্ভোগ লাগবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদ আক্তার স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জেলা এনসিপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী আমিরুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা মাইনুল ইসলাম খন্দকার, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জুনায়েদ হাসান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের জেলার সাধারন সম্পাদক তাজুল ইসলাম এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব শিমুল চৌধুরীসহ জোটের নেতাকর্মীরা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যার ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন।
নেতারা অভিযোগ করেন, একটি অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করছে। তাদের দাবি, সরকার সেই সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে বের হতে না পারায় বারবার জ্বালানির দাম বাড়ানো হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
তারা আরও বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনবান্ধব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত বাড়ছে।
নেতারা দাবি করেন, অবিলম্বে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট দমন এবং জনগণের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি তারা বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়িত হলে এ ধরনের কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।
