The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

ডঃ আব্দুস সাত্তার খান

sattar khan

ডঃ আব্দুস সাত্তার খান নাসা ইউনাইটেড টেকনোলজিস এবং অ্যালস্টমে কাজ করার সময়ে ৪০টিরও বেশি সংকর ধাতু উদ্ভাবন করেছেন। এই সংকর ধাতুগুলো ইঞ্জিনকে আরো হালকা করেছে, যার ফলে উড়োজাহাজের পক্ষে আরো দ্রুত উড্ডয়ন সম্ভব হয়েছে এবং ট্রেনকে আরো গতিশীল করেছে। তার উদ্ভাবিত সংকর ধাতুগুলো এফ-১৬ ও এফ-১৭ যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৭৬ সালে সাত্তার খান অ্যামস ছেড়ে যোগ দেন ক্লিভল্যান্ড ওহাইয়ো জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে, যা নাসা লুইস রিসার্চ সেন্টার নামে অধিক পরিচিত। তাঁর গবেষণার বিষয় হয় অতি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংকর ধাতু নিয়ে। যে ধাতুর বহুল ব্যবহার হয় রকেট ইঞ্জিনে। ১৯৭৮ সালে এসে সাত্তার খান সরাসরি যুক্ত হন মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১ ও এফ-২-এর জন্য নিকেল ও তামার সংকর ধাতু নিয়ে গবেষণায়। তাঁর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানও বদলে যায় এ সময়। নাসার পরিবর্তে তাঁকে অর্থায়নে এগিয়ে আসে প্রাট অ্যান্ড হুইটনি। তিনি হন প্রধান ম্যাটেরিয়াল ইঞ্জিনিয়ার। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর আবিষ্কৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিকেল এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের হালকা ইঞ্জিন তৈরিতে ব্যবহার শুরু হয়।

২০০০ সালে সাত্তার খান প্রাট অ্যান্ড হুইটনি ছেড়ে চলে আসেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সুইজারল্যান্ডের আলসট্রমে। এখানে তিনি গবেষণা শুরু করেন টারবাইন ইঞ্জিন ও দ্রুতগতির ট্রেনের সংকর ধাতু তৈরির। এ সময় তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও ২৫টি প্যাটেন্ট।

আব্দুস সাত্তারের গবেষণা এবং মহাকাশে তার প্রয়োগের জন্য তিনি নাসা, আমেরিকান বিমানবাহিনী, ইউনাইটেড টেকনোলজি এবং অ্যালস্টম থেকে অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ব্রিটেনের রয়েল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির একজন পেশাদার রসায়নবিদ এবং নির্বাচিত ফেলো।

এই বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর জন্ম ১৯৪১ সালে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার খাগাতুয়া গ্রামে।

Exit mobile version