The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

জনবল সংকটে কসবা মৎস্য অফিস, ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কার্যক্রম ও মৎস্যচাষিদের সেবা প্রদান। কার্যালয়ের পাঁচটি স্থায়ী পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন। অথচ উপজেলায় মৎস্যচাষির সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০। সীমিত জনবল নিয়ে বিপুলসংখ্যক চাষিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কার্যালয়টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ে একজন ক্ষেত্র সহকারী ও একজন অফিস সহকারী দিয়ে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, মৎস্যচাষিদের প্রশিক্ষণ, মাছের রোগবালাই প্রতিরোধে পরামর্শ প্রদান এবং সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
মৎস্য খাত বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কসবা উপজেলার বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়ে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক মানুষ। এসব চাষির উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করতে উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে মৎস্যচাষিরা সময়মতো প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।
কসবা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) সুব্রত গোস্বামী বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে সেবা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তারপরও সীমিত জনবল নিয়ে মৎস্যচাষিদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কার্যালয়ের স্থায়ী জনবল পাঁচজন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মৎস্য খাতের উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করতে হলে উপজেলা পর্যায়ের মৎস্য কার্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক মৎস্যচাষির কাছে সেবা পৌঁছে দিতে শূন্য পদ পূরণ এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় কসবা উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের জনবল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়নের মাধ্যমে মৎস্যচাষিদের সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি উপজেলার মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন আরও গতিশীল করা হবে।
Exit mobile version