গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিসিক শিল্পনগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী জামাল উদ্দিন (ময়দা জামাল) লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্য গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে হাজী জামাল উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য গুরুতর দগ্ধ হন। তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকার একটি বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনায় জামাল উদ্দিনের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে যায় বলে জানা যায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে অসাবধানতাবশত গ্যাসের চুলা বন্ধ করা হয়নি। রাত ১২টার দিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, গ্যাস না থাকায় চুলা থেকে আর কোনো ঝুঁকি নেই। সকালে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হলে রান্নাঘরসহ ঘরের ভেতরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে জামাল উদ্দিন ঘরে গ্যাসের গন্ধ পান। পরে রান্নাঘরে গিয়ে চুলার সুইচ বন্ধ করার চেষ্টা করলে চুলাটি জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরের বিভিন্ন অংশের কাঁচ, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে, গ্যাসের চুলা বন্ধ না রেখে ঘুমিয়ে পড়া এবং পরবর্তী সময়ে গ্যাস সরবরাহ চালু হওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
