
গুলশান ও শোলাকিয়া হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস সন্ধানে নেমে নেপাল-বিহার ভায়া মালদহ হয়ে বাংলাদেশে অস্ত্র পৌঁছানোর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন সেদেশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিইউ) গোয়েন্দারা। সিটিটিইউ-এর প্রধান মনিরুল ইসলাম সোমবার দেশে অস্ত্র পৌঁছানোর রুট সম্পর্কে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, জেএমবি (নিউ) জঙ্গিদের পশ্চিমবঙ্গের লিংকম্যানরা অস্ত্রশস্ত্র মালদহ সীমান্ত পার করাতে সাহায্য করেছিল। সিটিটিইউ গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, হামলার জন্য অস্ত্রশস্ত্র কোথা থেকে কবে আসবে, সে বিষয়ে বিশদ জানা ছিল বর্ধমান থেকে ধৃত আইএস জঙ্গি মহম্মদ মুসিরউদ্দিন ওরফে মুসার। সেই কারণেই অস্ত্রশস্ত্রের কনসাইনমেন্ট মালদহে এসে পৌঁছানোর অনেক আগে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে বেশ কয়েকবার মালদহে গিয়ে স্থানীয় লিংকম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল সে। সেরকমই একটি বৈঠকে মুসার সঙ্গে মালদহের কালিয়াচক সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে উপস্থিত ছিল জঙ্গি সংগঠন জেএমবি (নিউ)-র পক্ষে মহম্মদ সুলেমান। এই সুলেমানকেই জেএমবি (নিউ)-র শীর্ষনেতা তামিম আহমেদ চৌধুরি ওরফে বাংলার বাঘ বলে চিহ্নিত করেছেন গোয়েন্দারা।
সিটিটিইউ এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) সূত্রে জানা গিয়েছে, আইএসআই-এর নেপালের মডিউল মাওবাদীদের পিপলস লিবারেশন আর্মির প্রাক্তন সেনাদের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় করেছে। চীনের জোগানো সেই অস্ত্রই এখন তারা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কাছে বিক্রি করছে। জেএমবি (নিউ) সেভাবেই অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় করে নেপাল-বিহার সীমান্তের কৃষ্ণনগর শহর থেকে। এরপর সড়কপথে তা নিয়ে আসা হয় মালদহে। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, জাল নোট ও মাদক কারবারের পাশাপাশি মালদহের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকা এখন অস্ত্রপাচারের আখড়াও হয়ে উঠেছে। আর সে কারণেই গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আইএস-এর ভারতীয় প্রধান শফি আরমার ওরফে আনজান ভাইয়ের নির্দেশে অস্ত্র জোগাড়ে মালদহে এসেছিল হায়দরাবাদের যুবক নাফিস খান। গত বছরের ডিসেম্বরে তাকে গ্রেপ্তারের পর এই বিষয়টি জানতে পারে এনআইএ।