‘গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়। ৮০–৯০ টাকা কেজির নিচে সবজি নেই, একটা ডিমের দাম ১৫ টাকা। গরিব খাবে কী?’—চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশের এখন এই অবস্থা হইছে যে গরু-মহিষরে ঘাস খাওয়াইতে হইলেও চান্দা দিয়া খাওয়াইতে হয়। চান্দা না দিলে খামারের মাছের খাবারে বিষ মেশানো হয়।’
নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি হলে এর বিরুদ্ধে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় চান্দাবাজি হইলে আমি কাউকে চিনি না। আমি তাঁর বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াব। ডান পাশে বালুচোর আর বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’
নিজের আত্মীয়স্বজনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে সারের ডিলারশিপ দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে রাস্তার কাজের ঠিকাদারি দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে চান্দা দিয়া আপনাদের ব্যবসা করতে হবে।’
নিজের কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নাম-পরিচয় গোপন রেখে লিখিতভাবে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কোনো কর্মী ভোটারের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলেও তাঁকে জানাতে বলেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য ও জনদুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘১৭ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা আশা করেছিলাম, আমরা জনগণের একটা সরকার পাব, যারা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করবে, গ্যাসের সমস্যা সমাধান করবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে, জিনিসপত্রের দাম নাগালের মধ্যে রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এমন দুর্ভাগ্য, ৮০–৯০ টাকা কেজির নিচে সবজি নাই। ঢাকা শহরে একটা ডিমের দাম ১৫ টাকা। গরিব খাবে কী?’
