বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, শাপলা চত্বর আর মোদী বিরোধী আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের রক্তের মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। যার ধারাবাহিকতায় ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে বহু রক্ত, আর্তনাদ আর ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে ৩৬শে জুলাইয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদয় হয়। অথচ এই নতুন স্বাধীনতার নাম শুনলে বর্তমান সরকার ও বিএনপির কিছু নেতাদের গাত্রদাহ হয়।
তিনি শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পৌর মুক্তমঞ্চে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল, গ্যস, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে তিনি আরো বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহিদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে এদেশের ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। তবে কষ্টের সাথে বলতে হয় জুলাই শহিদদের রক্ত মাড়িয়ে ক্ষমতার মসনদে বসে বর্তমান সরকার শহিদদের রক্তের সাথে গাদ্দারি করেছে। কারণ জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিলো বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। সেজন্য ৩৩টি রাজনৈতিক দল ঐক্যমতের ভিত্তিতে জুলাই সনদ গঠন করেছে। জুলাই সনদ হলো ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল সহযোদ্ধাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার। বিএনপিসহ সকল দল অঙ্গীকার করেই জাতীয় নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করেছিলো। সেখানে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের হ্যা এর পক্ষ নিয়ে রাষ্ট্র মেরামতের ও সংবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। অথচ দেখা গেল দেশের বৃহত্তর অংশের জনগনের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের শপথ না নিয়ে বিএনপি বিশ্বাস ঘাতকতা করে দেশের মানুষের সাথে গাদ্দারি করেছে। অথচ গণভোটের মাধ্যমেই বিএনপির জন্ম হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দুর্বল প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন নয় বরং সংবিধান সংস্কার করে জুলাই সনদের ধারাকে সংযুক্ত করে গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি দেশের জ্বলানি সংকটের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সতর্ক করেন এবং শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশের জ্বালানি খাতের মন্ত্রণালয়গুলো প্রতিবেশী দেশের দালফল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কারণ বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্ধি একমাত্র ভারত। জ্বালানি সংকটে আজ দেশের রপ্তানী বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সভাপতি হাফেজ মাওলানা খন্দকার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম
মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা আব্দুল আজিজ,সাংগঠনিক সম্পাদা মাওলানা মুহসিনুল হাসান, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, জেলা জামায়াতে ইসলামের আমীর মোবারক হোসেন আকন্দ প্রমূখ। সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন।
