ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এদিকে, অর্থাভাবে কিশোরীর চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন তার দরিদ্র মা-বাবা।
গত ৭ অক্টোবর রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রামের একটি মাদ্রাসার মাঠে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পথে কিশোরীকে অটোরিকশায় তুলে নদীতীরের নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে বাড়ির পাশে রেখে যায় অভিযুক্তরা। এ ঘটনা কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরদিন থেকে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ঘটনার তিন দিন পর পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে সে। পরে স্বজনরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, ঘটনার কয়েক দিন পর কিশোরীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
গত সোমবার কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অর্থসংকটের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে হাসপাতাল থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা। বর্তমানে শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছে সে।
কিশোরীর বাবা-মা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন।
এদিকে, ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মনসুর আহমেদ জানান, ঘটনা জানার পর তিনি কিশোরীকে চিকিৎসা করানো এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
কিশোরীর মা বাদী হয়ে সরাইল থানায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর বাহার মিয়া ও নাঈম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলা দায়েরে দেরির পেছনে স্থানীয় কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
