The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

কাজীপাড়ায় প্রেমিকের সাথে বেড়াতে গিয়ে স্কুলছাত্রী নিহত (ভিডিও)

brahmanbaria accident photo
মনিরুজ্জামান পলাশ :: বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের গোকর্ণ রোডে(কাজীপাড়া মসজিদের সামনে) ট্রাক চাপায় তাহমিনা আক্তার রুমি (১৪) নামে এক স্কুল ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সে স্থানীয় আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ও শহরের পূর্ব পাইকপাড়া এলাকার হামদু মিয়ার মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের পরিবারে সে সবার ছোট। এ ঘটনায় তার প্রেমিক ইকরামুল হক জয় (১৬) নামে এক যুবক আহত হয়েছে। বর্তমানে সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। জয় কাউতলী এলাকার এডভোকেট ফজলুল হক এর ছেলে ও স্থানীয় পিপলস স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১২টার দিকে গোকর্ণ রোডের সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে রুমি ও জয় দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। এ সময় একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দিলে রুমি রাস্তায় ছিটকে পড়ে গিয়ে ট্রাকের নিচে পড়ে। পরে স্থানীয়রা রুমিকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জয়ও আহত হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রেমধন মজুমদার জানান, ঘাতক ট্রাক ও এর চালককে আটক করা হয়েছে।

এদিকে রুমির পরিবারের দাবি, জয় মাদক সেবন করত। সে রুমিকে অপহরন করতে চেয়েছিল। সে সময় জয় জোরাজোরি করলে রুমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ির নিচে পড়ে যায়।

তবে জয়ের দাবি, তারা গোকর্ণ রোডের সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দাড়িয়ে কথা বলছিল। রিআরটিসির ট্রাকটি অতিরিক্ত গতিতে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকটি রুমিকে চাপা দেয়। তখন জয় রুমিকে নিয়ে হাসপাতালে আসে। তারা দু বছর ধরে একে অপরকে ভালোবাসে। সম্প্রতি রুমির প্রবাসী ভাই দেশে আসছে, এ কারনে আগামী মাস দুয়েক তারা দেখা করতে পারবেনা, তাই তারা আজ দেখা করতে বেড়িয়ে ছিল। রুমি বাসায় তার বান্ধবির বাসায় যাবে বলে বেড়িয়েছিল। যাকে এমন ভালবাসে তাকে সে কি করে অপহরন বা হত্যা করতে পারে ? পাল্টা প্রশ্ন জয়ের।

আটক ট্রাক চালক ফেনীর ফাজিলপুর এলাকার মাহবুবুল হকের ছেলে আফসার বলেন, আমি বুঝতেই পারিনি এক্সিডেন্ট হয়ছে। কিছুদূর যাওয়ার পর লোকজন বলল আমি নাকি পিছনে এক্সিডেন্ট করে আসছি। আমি কর্তৃপক্ষকে আসতে বলেছি।

এদিকে, তাহমিনার মৃত্যুর খরবে সদর হাসপাতালে তার স্বজনদের ঢল নামে। সবাই এই ছাত্রীর অকাল প্রয়ানে হতবিহবল হয়ে পড়ে।

Exit mobile version