ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে শিশুটির মা কসবা থানায় মামলাটি করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ইয়াসিন মিয়া। তিনি উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় ফার্নিচার ব্যবসায়ী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে শিশুটি বাড়ির জন্য সয়াবিন তেল কিনতে হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাজারে যায়। বাজার থেকে ফেরার পথে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে নিজের দোকানে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে।
বাড়িতে ফিরে শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের চেষ্টা করায় মামলা করতে দুই থেকে তিন দিন দেরি হয় বলে শিশুটির পরিবারের ভাষ্য।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, শুক্রবার রাতে দুই পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে তাঁরা প্রথমে মামলা করতে ভয় পান। পরে সন্তানের প্রতি নির্যাতনের বিচার চেয়ে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন।
এ বিষয়ে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বসেছিলেন। অভিযোগ সত্য হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে শিশুটির পরিবারকে সহযোগিতা করাই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে থানায় আনা হলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও স্বজনেরা তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূইয়া জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর শিশুটিকে ডা. শায়লা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
