
প্রত্যক্ষদশী,পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে পারিবারিক ভাবে পারভেজ মিয়া ও লাকি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলে আসছে। কলহের জেরে লাকী আক্তার স্বামীর সংসার করবে না বলে বাবার বাড়িতে চলে আসে। স্ত্রীকে নিতে পারভেজ একাধিকবার শ্বশুরবাড়ীতে আসলে স্ত্রী স্বামীর সংসারে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। লাকী আক্তার বাবার বাড়ির পাশেই স্থানীয় কামাল মাস্টার এর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে পারভেজ পরিবারের লোকজন নিয়ে এসে স্থানীয় সাহেব-সর্দারগনকে বিষয়টি জানিয়ে লাকীকে বাড়িতে নিতে চাইলেও সাহেব সর্দাদের সামনে স্বামীর বাড়িতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।
কয়েকদিন আগে লাকীর গৃহকর্তা কামাল মাস্টার ও তাঁর স্ত্রী চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। বাড়িতে ছিলেন কামাল মাষ্টারের মেয়ে লিমা আক্তার (২২) ও গৃহকর্মী লাকী আক্তার। বুধবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে আটটার দিকে পারভেজ মিয়া কামাল মাস্টারের বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে তার বাড়িতে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। লাকি যেতে অস্বীকৃতি জানালে উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীকে চুল ধরে মারতে থাকে এবং এক পর্যায়ে পারভেজের কাছে থাকা একটি ছুরি দিয়ে স্ত্রীর বুকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় পারভেজ বলতে থাকেন তোকে মারবো, আমিও মরে যাব। ওই সময় লাকীর আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। এরই মধ্যে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের পর ফ্যানে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ওই বাড়িতেই আত্মহত্যা করে পারভেজ। স্থানীয় লোকজন লাকী আক্তারকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে রাতেই কসবা সার্কেল’র সহকারী পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান, কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে মারা গেছে মনে করে নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। স্ত্রীর অবস্থা আশংকাজনক। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হপসাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।