ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সোনিয়া আক্তার (১৯) নামে এক নববিবাহিত গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে জানিয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।
সোমবার (২৯ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কুটি গ্রামের ঈদগাহ পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোনিয়া আক্তার ওই গ্রামের সাগর মিয়ার স্ত্রী। প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। সোনিয়ার বাবার বাড়ি কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকসিনা কুচুয়াপাড়া গ্রামে। তিনি সাজিদ মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকালে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় সোনিয়াকে দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে রাত ১০টার দিকে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের বাবা সাজিদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিসও হয়েছে এবং জামাইকে বিভিন্ন সময় দাবি অনুযায়ী জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, সোমবার বিকেলে ফোন করে জানানো হয় তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে এবং মরদেহ নিতে বাড়িতে যেতে বলা হয়। রাতে সেখানে গিয়ে তিনি বাড়ির বাইরে মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়; পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর নিহতের স্বামী, শাশুড়িসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, “এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
