
তার গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে। তবে শেষ সময়টাই নিজেই নিজের মনোবল হারিয়ে ফেলেছিলেন এই শিল্পী। শরীর সামর্থ্যের কাছে হেরে গেলেন আবদুল জব্বার। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বিদায় নিলেন চিরতরে।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। বুধবার সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আবদুল জব্বার কিডনি, হার্ট, প্রস্টেটসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের বিভিন্ন স্থানে গণসংগীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ টাকা তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুম্বাইয়ে ভারতের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জনমত তৈরিতেও নিরলসভাবে কাজ করেন। অসংখ্য কালজয়ী গানে কণ্ঠ দেন আবদুল জব্বার। সংগীতাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিতে ১৯৮০ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে বাংলাদেশ সরকার।