
বরখাস্তের পত্র ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ স্বারক নং-দেআউবি ২৩/১৫, তারিখ-০৮/১০/২০১৫ খ্রি:, স্বারক নং- দেআউবি ২৪/১৫, তারিখ-০৭/১১/২০১৫ খ্রি: ও সর্বশেষ স্বারক নং- দেআউবি ১৩/১৬, তারিখ- ১১/০৫/২০১৬ খ্রি: পরপর তিন বার কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করে। দম্ভ দেখিয়ে তিনি ওই নোটিশ গুলোর কোন জবাব আদৌ দেননি। যাহা চাকুরী বিধিমালার শৃংখলা ও আচরণ বিধির পরিপন্থি। এর পূর্বেও তিনি একাধিকবার গর্হিত অপরাধ করে কর্তৃপক্ষের এহেন আদেশ অমান্য করেছেন। শ্রেণি কক্ষে তিনি পাঠদানের সময় বিষয় ভিত্তিক আলোচনা না করে সরকার বিরোধী আলোচনা ও খোশ গল্প করে সময় অতিবাহিত করেন। নিজ ইচ্ছায় বিদ্যালয়ে আগমন ও প্রস্থান করেন। পাঠদানে মনোযোগ থাকে না তার। কোন সময় তিনি সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা করেন না। স্থানীয় শিক্ষক হওয়ায় তিনি সর্র্বদাই কর্তৃপক্ষের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। মাঝে মধ্যে অশ্লিল ভাষা ব্যবহার করতেও তিনি দ্বিধা করেন না।
গত শনিবার ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভায় ৩ নং অনুচ্ছেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল রোববার থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক সরকারি বেতনের অর্ধেক টাকা খোরাকী হিসেবে পাবেন। আর বিদ্যালয় হতে কোন বেতন ভাতা পাবেন না মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। প্রসঙ্গত: আগামী সাত (০৭) কার্য দিবসের মধ্যে কেন শিরিন আক্তারকে চুড়ান্ত বরখাস্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে না তার সন্তোষজনক চাওয়া হয়েছে।
ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুব খান শিরিন আক্তারকে বরখাস্তের কথা স্বীকার করে বলেন, তার অশালীন আচরণ ও বিভিন্ন কৃত অপরাধের কারনে ২০১০ সালে কর্তৃপক্ষ ১ বার, ২০১১ সালে ৩ বার ও সম্প্রতি পরপর ৩ বার কারন দর্শানো নোটিশ দিলেও তিনি কোন জবাব না দিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিষদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছেন। চাকুরী করলে প্রতিষ্ঠান ও সরকারের নিয়ম তো মানতে হবে। তিনি পুরো উল্টো। এ ভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। তাই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।