
সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার কোটি টাকা যা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা বেশি। একই সময়ে ৮ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা এবং গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ। ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংক আমদানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাণিজ্য করেছে যথাক্রমে ৩৪ হাজার কোটি টাকা, ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং ২৮ হাজার কোটি টাকা।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সকল শক্তি ও সামর্থকে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংক হিসেবে দেশের সকল মানুষের জন্য এ ব্যাংকের সেবার দরজা উম্মুক্ত থাকবে। ইসলামী ব্যাংকের মৌলিক দর্শন, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে কোন পরিবর্তন হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ব্যাংক তার সকল কার্যক্রম শরী‘আহ্’র নীতিমালার আলোকে পরিচালনা করবে। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। তিনি বলেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন করা হবে। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষে নারী অফিসার নিয়োগ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ব্যাংকের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে। সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যাংক পরিচালনার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে আরো বেশি অবদান রাখতে তিনি শাখা ম্যানেজারদের প্রতি নির্দেশনা দেন।
ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম বিশেষ অতিথির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিচালনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। সরকারের রূপকল্পপ-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ব্যাংক আগামীতে জিডিপিতে ১ শতাংশ অবদান রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যাপক বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি সুদৃঢ় করণসহ প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আরো বেশি ভূমিকা রাখবে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচিকে গরীবি হঠাও আন্দোলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আরো পাঁচ লাখ নারী উদ্যোক্তা তৈরি করবে ইসলামী ব্যাংক।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, ক্ষুধা, দারিদ্র ও বৈষম্যমুক্ত একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক। নানামূখী অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে সরকারের সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এ ব্যাংক। সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যাংকের মানসম্মত সেবা আরো বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তারা শাখা ম্যানেজারদের প্রতি আহবান জানান। ২০১৬ সালের সার্বিক অর্জনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ২০১৭ সালে পরিচালনা মুনাফাসহ সকল প্যারামিটারে আরো উন্নতি করার পরামর্শ দেন।