কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাদলা গ্রামের তরুণী মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩)। গত ১৬ অক্টোবর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। মিলিতার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মিলিতা মেহজাবিন আলভী কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের খাদলা গ্রামের সেলিম মিয়ার সন্তান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গত ১৬ অক্টোবর সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে মেরিন ড্রাইভের পাশে পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মিত রিসোর্টটির বড় একটি অংশ পুড়ে যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন আশিকুল ইসলাম। আগুন লাগার পর রিসোর্টের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে তিনি প্রাণে বাঁচলেও তাঁর স্ত্রী ইশরাত জাহান মালিহা (৩০), শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), স্বজন মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), ফারিহা কবির (৩৩), ফাইজান আহমেদ (৫) ও নাফিস্তা মিম (২৭) মারা গেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার দিন সকালেই তাঁদের ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা ছিল।
অগ্নিকাণ্ডে মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ কয়েকজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি কিংবা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মিলিতার মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড পর্যটন কেন্দ্র গুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
