আশুগঞ্জে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিকে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে আইনজীবীরা সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিহত শিশুর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন আসামির ফাঁসির দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন। এর আগে তাঁরা জেলা আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে আসামির পক্ষে মামলা না লড়ার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, “ছয় বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াবেন না। আমাদের কোনো আইনজীবী গ্রেপ্তার আসামিকে আইনি সহায়তা দেবেন না। বরং এ ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সব আইনজীবী কাজ করবেন।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার আশুগঞ্জে একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে অভিযুক্ত তরুণ শিশুটিকে পানি এনে দেওয়ার কথা বলে নিজ ঘরে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
পরে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তরুণকে আটক করে গণপিটুনি দেন। ধর্ষণ ও হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক হাজার মানুষ অভিযুক্তকে একটি বাড়িতে ঘেরাও করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ হেলমেট পরিয়ে অভিযুক্তকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত শিশুটি আশুগঞ্জের স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়ত। শিশুটির মা বাদী হয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় শিশুটির দূর-সম্পর্কের এক চাচাকে আসামি করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, অভিযুক্ত তরুণ আদালতে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (পঞ্চম আদালত) ওমর ফারুক তাঁর জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন। পরে শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
