আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়াকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।
এ সিদ্ধান্তের আগে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থল নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনের সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বর্তমানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিবেদনে তাদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতের কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাফে মোহাম্মদ ছড়া আন্দোলনের সময় ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া আশুগঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময় মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনসংক্রান্ত একটি সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, *”জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রশাসনের দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হবে।”*
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব গোলাম মোর্শেদ জানান, **রাফে মোহাম্মদ ছড়াকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।**
অন্যদিকে রাফে মোহাম্মদ ছড়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, *”ঘটনার সময় আমি ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলাম এবং সেদিন রাতে ডিউটির দায়িত্বে ছিলাম। ওই রাতে কোনো ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টির সাক্ষী হিসেবে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও রয়েছেন। প্রয়োজনে প্রযুক্তিগতভাবে বিষয়টি যাচাই করে এরপর সংবাদ প্রকাশ করলে ভালো হবে।”
