আমন মৌসুম সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমে উঠেছে ধানের চারার হাট। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক ও ব্যাপারীরা বিভিন্ন জাতের ধানের চারা নিয়ে আসছেন নন্দনপুরের এ হাটে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সদর উপজেলার নন্দনপুরে মাসব্যাপী বসেছে জেলার অন্যতম বড় ধানের চারার হাট। সদর উপজেলার প্রায় ৫০০ কৃষক চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত চারা তারা এ হাটে বিক্রি করছেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষক ছাড়াও নিম্নাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা হাট থেকে প্রয়োজনীয় চারা সংগ্রহ করছেন। খাসা, নাজিরশাইল, বিনা-৭, বিআর-২২, বিআর-২৩, গাইন্ধা ও কালোখাসাসহ বিভিন্ন জাতের ধানের চারা পাওয়া যাচ্ছে এখানে।
চারার জাত ও আকারভেদে প্রতি আঁটি ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, প্রতি বিঘা জমিতে চারা উৎপাদনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হলেও তা বিক্রি করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে। এতে চারা উৎপাদনকারী কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাশাপাশি কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, মাধবপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা এ হাটে আসছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। প্রতিদিন এ হাটে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ধানের চারা বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চারা বিক্রেতা মজিদ মিয়া বলেন, “চারার আঁটির ধরন ও জাতভেদে দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করা হয়।” আরেক বিক্রেতা আবুল হাসেম বলেন, “কৃষকরা এ বাজার থেকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী চারার আঁটি কিনে নিয়ে যান।”
ক্রেতা কৃষক আলাল উদ্দিন বলেন, “এখানে বিভিন্ন জাতের ধানের চারা পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী চারা কিনতে পারছি।” আরেক কৃষক আবু তাহের বলেন, “বাজারে চারার দাম নির্ধারিত থাকলে কৃষকদের জন্য কেনাকাটা আরও সহজ হবে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আদর্শ বীজতলা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষি উপকরণ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৫৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মানসম্মত চারা উৎপাদনের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চারার চাহিদা জেলার বাইরেও রয়েছে। এ কারণে আমন মৌসুমকে কেন্দ্র করে নন্দনপুরের চারার হাটে বেচাকেনা আরও জমে উঠেছে।
