The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

আখাউড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত নারীর আনুমানিক বয়স ৩৫ বছর। পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় তথ্যভান্ডারে যাচাই করা হলেও তাঁর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রেলওয়ে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে থানার অধীন কোড্ডা এলাকার আপ-রেললাইনের ২০৩/৭-৮ কিলোমিটার পয়েন্টে অজ্ঞাত একটি ট্রেন ওই নারীকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও কাটা জখমের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে পরিচয় শনাক্তের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল মর্গে গিয়ে নিহত নারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় তথ্যভান্ডারে যাচাই করে। তবে এতে তাঁর কোনো পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে অজ্ঞাত নারীর মরদেহটি হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, “ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে নিহত অজ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুনরায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে যাচাই করা হবে।”
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে রেলওয়ে থানা পুলিশের পাশাপাশি ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কুদ্দুস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অজ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্তে পিবিআই কাজ করছে। এখন পর্যন্ত তাঁর নাম-পরিচয় বা ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো স্বজনের সন্ধান না মিললে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-কে অবহিত করা হবে।
Exit mobile version