The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

অনলাইনে তিন মাসের প্রেম, কসবায় এসে ধর্মান্তরিত হয়ে তরুণীকে বিয়ে চীনা যুবকের

রুবেল আহমেদ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় প্রেমের টানে বাংলাদেশে চলে এলেন চিনা যুবক সোহান চাও (৩৮) ওরফে মোহাম্মদ। তিন মাসের প্রেমের সুত্র ধরে বাংলাদেশে এসে ধর্মান্তরিত হয়ে প্রেমিকা আয়েশা সুলতানা (২১) কে বিয়ে করে এক মাসের বেশী সময় বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এই চিনা যুবক সোহান চাও । আয়েশা সুলতানা কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামের আবদুল আলিমের মেয়ে। ওই যুবক চিনের হানান প্রদেশের নানিয়াং শহরের বাসিন্দা সংফু ফ্যাং এর ছেলে ।
তিনদিন ধরে উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামে মেয়ের বাড়িতে আসে সোহান চাও। শনিবার বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কৌতুহলী মানুষ আয়েশা সুলতানার বাড়িতে জড়ো হয় চিনা যুবককে দেখার জন্য এবং প্রত্যন্ত গ্রামে চিনা যুবকের উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
চিনা যুবকের স্ত্রী আয়েশা সুলতানা জানায়, তিন মাস আগে ওয়ালটপ নামে অনলাইন সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় হয় চিনের হানান প্রদেশের নানিয়াং শহরের বাসিন্দা যুবক সোহান চাওয়ের সাথে। সোহান চাও চিনের ওই এলাকার সংফু ফ্যাং এর একমাত্র ছেলে। দুজনের তিন মাস ধরে কথোপতনের ফলে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই তিন মাসের প্রেমের সূত্র ধরে ১২ জুন বাংলাদেশে আসে সোহান চাও। আয়েশা সুলতানা তাকে বিমানবন্দর থেকে রাতের বেলায় নিয়ে আসে গ্রামের বাড়ি বাইসার। পরে ১৪ জুন তাকে নিয়ে ঢাকায় যান। সেখানে হাই কোর্টের এক বিজ্ঞ আইনজীবী লিমা আক্তারের যোগাযোগ করেন বলে জানান আয়েশা। সেখানে আইনজীবীর মাধ্যমে সোহান চাওয়ের পিতা সংফু ফ্যাং এর সাথে কথা তাদের। সোহান চাওয়ের পিতার সাথে কথা বলার আয়েশার পরিবারের কথা মেনে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহন করেন সোহান চাও। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ। পরে তারা বিয়ে করেন এবং ঢাকায় বসবাস করতে থাকেন। বৃহস্পতিবার স্ত্রী আয়েশা সুলতানার বাড়িতে নিয়ে আসেন জামাই চিনা যুবক সোহান চাও ওরফে মোহাম্মদকে। এ ঘটনা জানা জানির পর এলাকার মানুষ ভীড় করতে থাকেন তাকে দেখার জন্য।
আয়েশার পিতা আবদুল আলিম বলেন, গত ১২ জুন দেশে আসে চিনা যুবক সোহান চাও। পরের দিন ঢাকায় গিয়ে উকিলের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে মুসলমান ধর্ম গ্রহন করার পর তার সাথে মেয়েকে বিয়ে দিই। এতদিন ঢাকায় বসবাস করতো। মেয়ের কাগজপত্র তৈরি হচ্ছে । তাকে চিনে নিয়ে যাবে। আমি জেনে শুনেই বিয়ে দিয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।
Exit mobile version