Main Menu

নবীনগরের ৪টি ঘর পুড়ে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের নেতৃবৃন্দ

+100%-
মিঠু সূত্রধর পলাশ, নবীনগর প্রতিনিধি  ::  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের উত্তর লক্ষীপুরের হাজিরহাটি গ্রামে দুর্বৃত্ত কর্তৃক ৪টি ঘর পুড়ে যাওয়ার পর আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নবীনগর অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের নের্তৃবৃন্দ। এসময় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে দ্রুত অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবিও জানান ফোরাম নেতারা।
জানা যায়, শনিবার মধ্যরাতে নোয়াফের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এলাকার পল্লী  চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমের গ্রামের বাড়ি হাজিরহাটিতে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে ওই বাড়ির চারটি বসত ঘর ভস্মিভূত হয়ে যায় । পরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি বিভিন্ন  গণমাধ্যমসহ ফেসবুকে ভাইরাল হলে, সর্বত্র এ নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে।
এ অবস্থায়  রোববার দুপুরে  নবীনগর অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (NOAF) নোয়াফের সভাপতি সফিকুল ইসলাম শফিকের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্খলে ছুটে যান।
এসময় নোয়াফের নেতৃবৃন্দ গ্রামটিতে ঘুরে গ্রামের অসহায় লোকজনের সাথে কথা বলে খোঁজ খবর নেন এবং অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহবান জানান।
সরজমিনে দেখা যায়, সম্প্রতি গ্রামটিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মোবারক মিয়া নিহত হওয়ার পর থেকে পুরো এলাকায়  এখন পুরুষ শূণ্য অবস্থা বিরাজ করছে।
 অগ্নিসংযোগ শিকার  ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক  নোয়াফের  স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,”আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দেখতে চাই। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করায় ফোরাম নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”
পরে এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসে নোয়াফের সভাপতি সফিকুল ইসলাম শফিক বলেন,” একটি গ্রাম কতটা বর্বরতার শিকার হতে পারে হাজিরহাটিতে না গেলে সেটি কেউ বিশ্বাসই করতে পারবে না। গ্রামটিতে এতটা বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেখে প্রথমে যে কেউ  আঁতকে উঠবে।” তিনি আরও বলেন,”প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদেরকে গ্রামটি অবিলম্বে পরিদর্শন করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নোয়াফের পক্ষ থেকে আমরা জোর দাবি করছি।”
 এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি প্রভাষ ধরের সঙ্গে কথা বললে, তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন,”ঘটনার দুদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও ক্ষতিগ্রস্থ কেউ এখনও এসে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে আজ দুজন মহিলা গ্রাম থেকে থানায় এসেছিলেন। তারা দ্রুত পুরুষ লোকদের নিয়ে এসে মামলা দিবেন বলে আমাকে জানিয়ে গেছেন।”
এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন,”এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপনাধীরা কোনভাবেই ছাড় পাবে না। অগ্নিসংযোগ কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
উল্লেখ্য ,  গত ১২ এপ্রিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবাদমান কাউছার মোল্লা ও চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে এক সংঘর্ষে মোবারক মিয়া নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এরপর থেকেই এলাকায় একের পর এক অনাকাংখিত বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এরই জের ধরে শনিবার মধ্যরাতে প্রতিপক্ষের লোকজন জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে এই আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটাতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়  এলাকাবাসীর।