Main Menu

নাসিরনগর হামলার চার বছর আজ, অগ্রগতি নেই মামলাগুলোর

+100%-

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫টি মন্দির ও শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার আজ বৃহস্পতিবার চার বছর পূর্ণ হলো। এসব ঘটনায় আটটি মামলা হয়। ঘটনার ১৩ মাস পর একটি মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়। কিন্তু চার বছরেও বাকি সাতটি মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দিতে পারেনি পুলিশ। আর দীর্ঘ এত সময়েও ফেসবুকের আপত্তিকর ওই পোস্টের রহস্যও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

রসরাজ দাস নামে এক যুবকের ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ওই হামলা চালানো হয়। কিন্তু রসরাজ ওই পোস্ট দেননি। তাঁর ফেসবুক, মুঠোফোন ও মেমোরি কার্ডের ফরেনসিক প্রতিবেদনে তাঁর আইডি থেকে ওই পোস্ট দেওয়ার কোনো আলামত পায়নি পিবিআই। চার বছরেও ফেসবুকে কে পোস্ট দিয়েছিলেন তা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। তারপরও সাত মামলায় পুলিশের তদন্ত শেষ হয়নি।

রসরাজ দাস উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ফেসবুকের পোস্টের জেরে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর সকালে উপজেলা সদরে ১৫টি হিন্দু মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার দায়ে প্রথমে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদের এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোয়াজ্জাম আহমদকে প্রত্যাহার করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদরের এসব ঘটনায় সাতটি মামলা দায়ের করা হয়। তা ছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ এনে রসরাজের নামে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ধারায় মামলা করে এসআই কাউসার হুসাইন। এই আট মামলায় প্রায় তিন হাজার লোককে আসামি করা হয়। আর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বর্তমানে রসরাজের মামলাটির তদন্ত করছেন। রসরাজ ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে জামিনে মুক্তি পান।

উপজেলা সদরের মহাকালপাড়া গৌরমন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর গৌরমন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২২৮ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

রসরাজ দাসের মামলার আইনজীবী নাসির মিয়া বলেন, চার বছরেও রসরাজের মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমাণের জন্য পুলিশ কাজ করছে। দ্রুতই এসব মামলার প্রতিবেদন দেওয়া হবে।