Main Menu

দেশের শীর্ষ ধনী ১০ জেলার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সপ্তম

+100%-

ছবি : ফেসবুক থেকে নেয়া।

দেশের শীর্ষ ধনী ১০ জেলার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সপ্তম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানার আয় ও ব্যয় নির্ধারণ জরিপ ২০১৬-তে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। সেখানে প্রথমবারের মতো জেলাওয়ারি ধনী-দরিদ্র্য পরিস্থিতি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

সবচেয়ে ভালো আছেন নারায়ণগঞ্জের মানুষ। এই জেলার প্রতি ১০০ জনে গড়ে ২ দশমিক ৬ জন মানুষ গরিব। বাকিরা সবাই দারিদ্র্যসীমার ওপরে বাস করেন। দারিদ্র্য কম এমন শীর্ষ ১০টি জেলার ৭টিই ঢাকা বিভাগের। নারায়ণগঞ্জ ছাড়া ঢাকা বিভাগের বাকি ছয়টি জেলার মধ্যে দারিদ্র্যের হার মুন্সিগঞ্জে ৩ দশমিক ১ শতাংশ, মাদারীপুরে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, গাজীপুরে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, ফরিদপুরে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ, ঢাকায় ১০ শতাংশ ও নরসিংদীতে সাড়ে ১০ শতাংশ। শীর্ষ দশের তালিকায় থাকা অন্য তিনটি জেলার মধ্যে দারিদ্র্যের হার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ, মৌলভীবাজারে ১১ শতাংশ ও সিলেটে ১৩ শতাংশ। সে হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রয়েছে সপ্তম স্থানে।

বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা উত্তরবঙ্গ। সবচেয়ে বেশি গরিব মানুষ থাকে রংপুর বিভাগে। দারিদ্র্যর হার সবচেয়ে বেশি, এমন ১০টি জেলার মধ্যে ৫টিই রংপুর বিভাগের। কুড়িগ্রাম ছাড়া এই তালিকায় আছে রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট। এর মধ্যে দারিদ্র্যের হার দিনাজপুরে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ, গাইবান্ধায় ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ, রংপুরে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ও লালমনিরহাটে ৪২ শতাংশ। শীর্ষ দশের তালিকায় দেখা গেছে, দেশের আরেকটি দারিদ্র্যপ্রবণ পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা আছে। এই তালিকায় থাকা অন্য তিনটি জেলা হলো জামালপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাগুরা।

কুড়িগ্রাম জেলার প্রতি ১০০ জন অধিবাসীর মধ্যে প্রায় ৭১ জনই গরিব। তাঁরা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত খাবার কিনতে পারেন না। আবার দৈনন্দিন চাহিদা যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বস্ত্র এসবেও খরচ করার সুযোগ কম। কুড়িগ্রাম জেলায় দেশের সবচেয়ে বেশি গরিব মানুষ। এই জেলার দারিদ্র্যের হার ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ। জেলার কোথাও কোথাও দারিদ্র্যের হার ৭৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তবে কোথাও ৬৪ শতাংশের নিচে দারিদ্র্যের হার নেই।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জরিপটির প্রকল্প পরিচালক দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘এবারই প্রথমবারের মতো জেলাওয়ারি দারিদ্র্য পরিস্থিতি কেমন তা তুলে ধরা হয়েছে। আমরা দেখতে চেয়েছি, আঞ্চলিক পর্যায়ে দারিদ্র্য বা দারিদ্র্য পকেট আছে কি না। দেখা গেছে, কিছু অঞ্চল বেশি দরিদ্র।’ তিনি জানান, এই জরিপে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেশি দরিদ্র অঞ্চলগুলোয় সরকার নীতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিতে পারে।

খানার আয় ও ব্যয় নির্ধারণ জরিপ ২০১৬ অনুযায়ী, গত ছয় বছরে সার্বিক দারিদ্র্যের হার সাড়ে ৩১ শতাংশ থেকে কমে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। অতি দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০১৬ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। বিবিএসের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ২০ লাখ। সেই হিসাবে, দেশে ৩ কোটি ৯৩ লাখ দরিদ্র মানুষ আছে। হতদরিদ্রের সংখ্যা ২ কোটি ৮ লাখ।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares