The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

১৯ বছর চালু হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইল, পিপিপিতে পরিচালনার নীতিগত অনুমোদন

দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকায় অবস্থিত কোকিল টেক্সটাইল মিলসটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মিলটি উন্নয়নের একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ‘ডেভেলপমেন্ট অব কোকিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ শীর্ষক প্রকল্পটি পিপিপির ভিত্তিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) সূত্রে জানা গেছে, কোকিল টেক্সটাইল মিলসের ১০ দশমিক ৫৮ একর জমি রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেসরকারি অংশীদার নিজস্ব অর্থায়নে কারখানা নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করবেন। এর বিনিময়ে সরকার জমির ইজারা বাবদ অর্থ পাবে। জমির মালিকানা সরকারের হাতেই থাকবে। পাশাপাশি বেসরকারি অংশীদার জমি বন্ধক রাখতে পারবেন না।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে বস্ত্র, তৈরি পোশাক ও পাটসংশ্লিষ্ট শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মিলটির জমি ও অবকাঠামো শিল্পকারখানা স্থাপনে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
কোকিল টেক্সটাইল মিলসের ইতিহাস স্বাধীনতার আগের। ১৯৬১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্যানোরামা কোম্পানি লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৬ সালে এতে সুতা উৎপাদন শুরু হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করে নাম রাখা হয় কোকিল টেক্সটাইল মিলস।
২০০৭ সালে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মিলটির উৎপাদন আবার শুরু হয়েছিল। তবে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে ওই বছরের ১৬ অক্টোবর কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় মিলটিতে ২১০ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পিপিপির মাধ্যমে মিলটি উন্নয়নের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির জমি ও স্থাপনা পুনরায় শিল্প উৎপাদনে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ও কারখানার কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা রয়েছে।
Exit mobile version