
শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চন্দন দেব কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, (শুক্রবার) বিকেলে আমাকে মানিক দেব ফোন করে বলে, আপনার বোন (লিপি) বিষ খাইছে। আমরা চিকিৎসা করাইছি। আপনি আপনার বোনরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়া চিকিৎসা করান। আমি স্পীডবোটে লিপিরে পাঠাই দিছি। সাথে সাথে লিপিকে জেলা সদর হাসপাতালে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক লিপিকে মৃত ঘোষণা করেন। লিপির আট বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
লিপির ছোট ভাই চপল দেব অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই মানিক দেব লিপিকে মারধর করত। শুক্রবার বিকেলে মানিক পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে গলা টিপে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে তার বোন লিপিকে হত্যা করেছে। পরে এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে মানিক তার চপলের বোন লিপিকে অষ্টগ্রাম থেকে স্পীডবোটে মানিকের দোকানের কর্মচারী ও এক প্রতিবেশির মাধ্যমে নাসিরনগর পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তার বোনের হত্যাকারী মানিকের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করবেন। লিপি দেবের স্বামী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মানিকই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে এমন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বলে মনে করেন লিপির পরিবারের সদস্যরা।
এঘটনায় মানিক দেবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, লিপি বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। অষ্টগ্রাম হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার মুখে পাইপ ঢুকিয়ে বিষ বের করেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আমার বড় ভাইকে দিয়ে সুস্থ্য লিপিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাঠিয়েছি। এমনটাই দাবী করেন নিহতের স্বামী মানিক কুমার দেব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা আবাসিক চিকিৎসক আজহারুল রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মুখে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত দেখা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
ময়না তদন্তের পর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে শুরু হয় শোকের মাতম। কান্না ভেঙ্গে পড়ে নিহত লিপির পরিবারের লোকেরা।
পাড়া-প্রতিবেশিরা একনজর লিপিকে দেখতে ভীড় করেন তার বাড়িতে। তাদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে উঠে। রাত নয়টায় লিপিকে পারিবারিক শশ্মানে সমাহিত করা হবে বলে লিপির পরিবারের সদস্যরা জানান।
অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ ফারুক আম্মেদ জানান, অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মানিক দেবের স্ত্রী গতকাল রাতে মারা গেছে শুনেছি। বিষপানে আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে সেটা আমি বলতে পারবনা।